বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

জাফলং-তামাবিল জেলা পুলিশ ক্যাম্পের জায়গা থেকে সরকারি গাছ কেটে কটেজ নির্মাণের অভিযোগ

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/১০/২০২৬ ০৫:৪৬:১৭ অপরাহ্ন

জাফলং-তামাবিল জেলা পুলিশ ক্যাম্পের জায়গা থেকে সরকারি গাছ কেটে কটেজ নির্মাণের অভিযোগ


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং-তামাবিল জেলা পুলিশ ক্যাম্পের জায়গা থেকে সরকারি শতশত গাছ কেটে কটেজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১০ একর জায়গা ২০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে সেখানে পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাফলং-তামাবিল জেলা পুলিশ ক্যাম্পের জায়গায় বেশ কয়েকটি কটেজ নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জায়গায় থাকা শত শত গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পুলিশের কাছ থেকে ১০ একর জায়গা ২০ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হয়েছে। কারা জায়গাটি লিজ নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় নলজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফারুক আহমদ গং জায়গাটি লিজ নিয়েছেন।

এদিকে সরেজমিনে ওই এলাকায় সরকারি গাছের বড় একটি অংশ কেটে ফেলার চিত্র দেখা যায়। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, সামনের দিকে রাস্তা তৈরি এবং সীমান্তের দৃশ্য দেখার সুবিধার্থে কিছু গাছ কাটা হয়েছে।

তবে এসব গাছ কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না? এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গা লিজ নেওয়ার পর সেখানে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে গাছ কাটা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে লিজগ্রহীতা ফারুক আহমদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আজকের সিলেটকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, “আমি কেন গাছ কাটব? এই জায়গা জেলা পুলিশের, কটেজও তাঁদের। আমি কেন অন্যের জায়গায় গাছ কাটতে যাব? জায়গাটি লিজ নিয়েছি, এটা ঠিক। কিন্তু আমি কোনো গাছ কাটিনি। বরং আমি বারোশত গাছ লাগিয়েছি।”

ফারুক আহমদ আরও বলেন, তিনি জেলা পুলিশের কাছ থেকে জায়গাটি লিজ নিয়েছেন। তাঁর নাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জায়গা লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া, গাছ কাটার অনুমতি ও কটেজ নির্মাণের বিষয়ে জানতে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজকের সিলেটকে বলেন, জায়গাটি অনেক আগে লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও প্রশাসনের বক্তব্য জানতে সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কয়েকবার কল কেটে দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি জায়গায় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার অনুমোদন কে দিয়েছে, আদৌ অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং লিজের শর্ত অনুযায়ী সেখানে কটেজ নির্মাণের বৈধতা কতটুকু? এসব বিষয় এখন তদন্তের দাবি রাখে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর