‘নীরব মহামারি’ পানিতে ডোবে মৃত্যু, বছরে ঝরে ১১ হাজার শিশুর প্রাণ
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:০৯ PM

‘নীরব মহামারি’ পানিতে ডোবে মৃত্যু, বছরে ঝরে ১১ হাজার শিশুর প্রাণ

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৫/২০২৬ ১০:২১:২৩ AM

‘নীরব মহামারি’ পানিতে ডোবে মৃত্যু, বছরে ঝরে ১১ হাজার শিশুর প্রাণ


নরসিংদীর মনোহরদীর ১৬ নম্বর অর্জুনচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সরু সড়কটি পেরোলেই বড় একটি পুকুর। পুকুরপাড় ঘেঁষেই তালুকদার বাড়ি। বিকেলের নরম আলোয় পুকুরটির দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে ছিলেন নাসিমা বেগম। ১০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তার চোখের ভেতর এখনো জমে আছে সেই দিনের আতঙ্ক, সেই শূন্যতা, সেই না-ফেরা বিকেল। কাঁপা হাতে পুকুরের এক কোণা দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘এই জায়গাটাতেই আমার শৈবাল ডুইবা গেছিল!’

শৈবাল তখন মাত্র ৮ বছরের শিশু। স্থানীয় স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। বাড়ির সবার আদরের সন্তান। সেই সময় নাসিমা বেগম নিজেও গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। জরায়ুর অস্ত্রোপচারের পর ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারতেন না। বহু বছর পরও সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন তিনি।

‘স্কুল থেইকা আইসা বই-খাতা রাইখা চুপচাপ অন্য বাচ্চাদের লগে পুকুরে গেছিল। আমি টেরও পাই নাই’, বলেন তিনি।

শুকনো মৌসুমের শেষ দিকে পুকুরের পানি এখন অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু বর্ষায় এই পুকুরই কানায় কানায় ভরে ওঠে। পুকুরের এক পাশে শানবাঁধানো ঘাট। সেদিকে তাকিয়ে নাসিমা বেগম বলেন, ‘একসাথে কয়েকটা বাচ্চা পানিতে ঝাঁপ দিছিল। কেউই সাঁতার জানতো না। মানুষ চারজনরে তুলতে পারছে। কিন্তু আমার ছেলেটা সবার নিচে চাপা পড়ে গেছিল।’ কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।

‘সে কোনোদিন একা পুকুরে যাইতো না। কেউ বুঝতেই পারে নাই যে শৈবালও পানিতে নামছে।’ এরপর শুরু হয় এক মায়ের উন্মত্ত ছুটে চলা।

‘আমি অসুস্থ শরীর নিয়াও পাগলের মতো খুঁজছি। মায়ের মন তো মানে না। মনে হইতেছিল, এই বুঝি কেউ আইসা কইবো—আপনার ছেলে বাঁচছে!’

এক আত্মীয়ের কথায় স্থানীয় এক কবিরাজের কাছেও গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার পথেই হঠাৎ মাইকিং শুনতে পান, একটি শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। ‘তখনই বুঝছিলাম, আমার শৈবাল আর নাই...’ এরপর আর কথা বলতে পারেন না নাসিমা বেগম। আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে শুধু বলেন, ‘আল্লাহ যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না করে!’

কিন্তু শৈবালের গল্প কেবল একটি পরিবারের নয়। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও কোনো মা তার শিশুকে হারাচ্ছেন পুকুরে, ডোবায়, খালে কিংবা নদীর পানিতে। যে শিশুটি কিছুক্ষণ আগেও উঠানে খেলছিল, মায়ের আঁচল ধরে হাঁটছিল, সেই শিশুই কয়েক মিনিটের অসতর্কতায় নিথর হয়ে ফিরছে বাড়িতে।

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। বছরে হারিয়ে যায় প্রায় ১১ হাজার শিশুর জীবন। অথচ প্রতিরোধযোগ্য এই মৃত্যুগুলো এখনো জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের ‘নীরব মহামারি’। প্রতিদিন অসংখ্য পরিবার শোকের ভেতর ডুবে গেলেও, জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিষয়টি এখনো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না।

বাংলাদেশে উদ্ভাবিত কমিউনিটিভিত্তিক শিশু যত্নকেন্দ্র বা ‘আঁচল’ মডেল ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু দেশে সীমিত পরিসরে পরিচালিত প্রকল্পগুলো টেকসই হয়নি।

সরকার ‘সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ, সুরক্ষা ও সাঁতার সুবিধা প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্প চালু করলেও সেটির মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করলেও এখনো মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়নি।

বাংলাদেশের ভয়াবহ বাস্তবতা
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এর বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের বাসিন্দা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণা বলছে, দেশের গ্রামীণ এলাকায় বাড়ির চারপাশে থাকা পুকুর, ডোবা, খাল কিংবা জলাবদ্ধ স্থান ছোট শিশুদের জন্য নীরব মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর হারে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষের দিকে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিং বলছে, বাংলাদেশে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটে পানিতে ডুবে। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে অনুযায়ী, আঘাতজনিত মৃত্যুর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু ছিল তৃতীয় প্রধান কারণ। আর ২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৫১ জনের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি শিশু।

জরিপে উঠে এসেছে, বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৬৫ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে। এদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৬৯ জনই শিশু ও কিশোর। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুরা।

গবেষণার তথ্য বলছে, প্রায় ৭০ শতাংশ শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায়। এছাড়া ডোবা, খাল, জলাবদ্ধ গর্ত, নদী কিংবা বন্যার পানিতেও ঘটে অসংখ্য মৃত্যু।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৃত্যুগুলোর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুদের মৃত্যু ঘটে পরিবারের চোখের আড়ালে অল্প সময়ের মধ্যে।

শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও ইউনিসেফের সাবেক শিশু সুরক্ষা স্পেশালিস্ট মুনিরা হাসান বলেন, ‘এটা একটা ন্যাশনাল ইস্যু, ন্যাশনাল সাইলেন্ট কিলার। কিন্তু আমরা এটাকে এখনো মেইনস্ট্রিম ইস্যু বানাতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সাঁতারকে এখনো বেসিক লাইফ স্কিল হিসেবে দেখা হয় না। অথচ নদীমাতৃক দেশে এটা খুব জরুরি। স্কুল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক সাঁতার শিক্ষা চালু করা দরকার।’

তার মতে, শুধু প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগে সমাধান হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশেই তৈরি মডেল, সফল বিদেশে
পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ‘আঁচল’ বা কমিউনিটি শিশু যত্নকেন্দ্র মডেল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। এই কেন্দ্রগুলোতে সাধারণত ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিরাপদ পরিবেশে রাখা হতো। সেখানে খেলাধুলা, গান, প্রাথমিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণের পাঠ দেওয়া হতো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু শিশুদের নিরাপদ রাখেনি, তাদের প্রারম্ভিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

মনোহরদীর চন্দনবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা সোমা বলেন, ‘আঁচল থাকলে আমরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারতাম। বাচ্চারা নিরাপদে থাকতো। এখন সারাক্ষণ ভয় লাগে।’

স্থানীয় আরেক নারী লাকী বলেন, ‘আমার ছেলের দুইবার সেলাই লাগছে পড়ে গিয়ে। আঁচল থাকলে এগুলো হতো না।’

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষক মো. আল আমিন ভূইয়া বলেন, ‘প্রতিদিন একটা ক্লাসরুম হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা এটাকে জাতীয় সংকট হিসেবে দেখছি না। বাংলাদেশ ড্রাউনিং প্রিভেনশনে গ্লোবালি পায়োনিয়ার। আমাদের মডেল ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নেপাল ব্যবহার করছে। কিন্তু আমরা নিজের দেশে তা ধরে রাখতে পারিনি।’

তার মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বিত একটি জাতীয় কাঠামো প্রয়োজন।

সরকারি উদ্যোগ কোথায়?
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন বলেন, ‘আমরা চাই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসুক। এ বিষয়ে একটি বড় প্রকল্প ছিল, ভবিষ্যতেও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা আছে।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি জানান, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, নীতি ও পরিকল্পনার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এখনো বড় কোনো কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সমাধান কী?
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখন পানিতে ডুবে মৃত্যু। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও জলাশয় ছোট শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি। এই বয়সী শিশুরা সাধারণত বাড়ির আশপাশেই থাকে। পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মায়েরা যখন গৃহস্থালির কাজ বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন অল্প সময়ের অসাবধানতায় শিশুরা জলাশয়ের কাছে চলে যায় এবং দুর্ঘটনা ঘটে।’

রুহুল কুদ্দুস জানান, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অংশীদারিত্বে ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইমিং ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে এটি ‘আঁচল’ নামে বেশি পরিচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘আঁচল কেন্দ্রগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা। কারণ এ সময়টাতেই অধিকাংশ মা-বাবা কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং শিশুরা নজরদারির বাইরে চলে যায়। কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষিত কর্মীদের তত্ত্বাবধানে শিশুরা থাকতো, খেলাধুলা করতো, প্রাথমিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ শিখতো। এর ফলে তারা নিরাপদ থাকতো।’

তিনি জানান, প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়মতো কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে না পারার কারণে প্রকল্পের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়। পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির আওতায় শুরুতে প্রায় আট হাজার কমিউনিটি সেন্টার চালুর পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বিপুলসংখ্যক শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়নি।

রুহুল কুদ্দুসের মতে, বর্তমানে যেভাবে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে, তাতে কমিউনিটি শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলো চালু থাকলে অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষাকালে গ্রামাঞ্চলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বাড়ির চারপাশে পানি জমে থাকে, পুকুর-ডোবা ভরে যায়। এই সময়ে শিশুদের নিরাপদ জায়গায় রাখার ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।’

সাঁতার শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য সাঁতার শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এটি শেখানো দরকার।

রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা মনে করি, সাঁতারকে একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে দেখতে হবে। যেসব শিশু স্কুলে যায়, তাদের জন্য সাঁতার শিক্ষা চালু করা গেলে ভবিষ্যতে ডুবে মৃত্যুর হার অনেক কমানো সম্ভব।’

তবে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মূল গুরুত্ব দিতে হবে নিরাপদ তদারকির ওপর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘যদি শিশু মৃত্যুর হার কমাতে চাই, তাহলে কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলো শুধু চালু করলেই হবে না, এগুলোর সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে।’

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশগুলো হলো—স্কুলভিত্তিক বাধ্যতামূলক সাঁতার শিক্ষা; গ্রামে গ্রামে শিশু যত্ন কেন্দ্র পুনরায় চালু; বাড়ির আশপাশের জলাশয় নিরাপদ করা; অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি; জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এবং ডুবে মৃত্যুর নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর