দেশে আবারও কমানো হয়েছে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
শনিবার মধ্যরাত থেকেই নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। বিইআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক দফায় লিটারপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা কমেছে এই জ্বালানির দাম।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১ দশমিক ৩৩৮৫ মার্কিন ডলার। নতুন করে তা কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম কমায় এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বিমানভাড়া কমবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
এর আগে গত ৭ মে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ২২ টাকা ৩৫ পয়সা কমানো হয়েছিল। তবে তার আগে ৭ এপ্রিল প্রায় ২৫ টাকা বাড়ানো হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৪ মার্চ এক দফায় জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৯০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল, যা নিয়ে বিমান পরিবহন খাতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
বিইআরসি জানিয়েছে, ২৩ মে কমিশনে জেট ফুয়েলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১ জ্বালানির প্লাটস রেট, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং দেশে ডিজেলের বিদ্যমান মূল্য বিবেচনায় নিয়ে মে মাসের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর নির্ভর করেই মূলত জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা থাকায় দেশেও এর প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশে জেট ফুয়েল সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বিইআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালিত বিমানগুলোর জন্য এই জ্বালানি অপরিহার্য। ফলে এর দামের পরিবর্তন সরাসরি বিমান পরিবহন খাতের ব্যয় ও পরিচালনায় প্রভাব ফেলে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








