আসলাম চৌধুরীর আসনে এখন কী হবে?
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ PM

আসলাম চৌধুরীর আসনে এখন কী হবে?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১/০৭/২০২৬ ১০:৫৬:১৯ AM

আসলাম চৌধুরীর আসনে এখন কী হবে?


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অবৈধ হয়ে গেল। ফলে এখন কী হবে ওই আসনে, এ নিয়ে আলোচনা চলছে আইনাঙ্গনে। ওই আসনে কী পুনরায় নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন—এ নিয়ে দ্বিমত পাওয়া গেছে আইনজীবীদের মধ্যে। তবে উভয় পক্ষ একমত হয়েছেন যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে বিষয়টি খোলাসা হবে।

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম ও আইনজীবী এ এস এম ইলিয়াস হায়দার।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের আশা, পুনরায় নির্বাচন হতে পারে। আর শিশির মনির বলছেন, সাধারণ কমনসেন্স হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ব্যক্তিই নির্বাচিত হবেন। তবে দুইজনই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।

ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়।  সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

ইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীও লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার রায়ে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন আপিল বিভাগ।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। স্বাধীন বিচারব্যবস্থায় যদি কোনো রায় প্রদান করে, সেটা রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি অঙ্গ এবং ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সে রায় মানা। আজকে আপিলটি অ্যালাউ (মঞ্জুর) করা হলো। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যে আপিল করেছেন, সেটা মঞ্জুর হওয়ার অর্থ হলো—আসলাম চৌধুরী যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন, সেটি আর আপাতদৃষ্টিতে থাকল না। তবে আদালত যেহেতু সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন, এর কিছু কনসিকুয়েন্সিয়াল অর্ডার হতে পারে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বাকি বিষয়গুলো আসবে। সেক্ষেত্রে আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

তবে আরেক প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি না দেখে এর কনসিকুয়েন্স কী হবে বলা যাবে না। তবে অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সেটা হচ্ছে জনগণ তাদের মতামত ও ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। যিনি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি একটা আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জনগণের মতামত পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমি প্রত্যাশা করি, জনগণ তাদের মতামত আবার প্রকাশ করার সুযোগ পাবে।

যদি আবার নির্বাচন হয়, সেক্ষেত্রে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করতে পারবেন কিনা—এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট সময়ের অযোগ্যতা তো সারাজীবন থাকবে না। তিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনে যে কারণে আপিলটি মঞ্জুর হলো, তার নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যে নির্বাচনের ফলাফলটি ভোগ করতে পারলেন না এবং পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি যদি সে অযোগ্যতা কাটিয়ে যোগ্য হন, তার তো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা থাকার কথা না।

জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সবার ঐকমত্যের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে (আপিল বিভাগের চার বিচারপতি) আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি থাকার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। এই রায়ের মাধ্যমে আসলাম চৌধুরী যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তার অংশগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করা হলো। অর্থাৎ তিনি অযোগ্য প্রার্থী হলেন। প্রার্থী অযোগ্য হওয়ার ফলে ওই আসনে কী হবে, এটা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে পরে বিস্তারিত জানা যাবে। এই মর্মে এখন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে সাধারণত কোনো আসনে প্রথম ব্যক্তি অযোগ্য হলে সাধারণত ভোট পাওয়া দ্বিতীয় যিনি থাকেন, তাকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করার কমনসেন্স তাই বলে। এটি সাধারণ নিয়ম। কিন্তু এর বাইরে আপিল বিভাগ বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেন কিনা, ব্যাপারটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে বিস্তারিত জানা যাবে। এটা ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট।

এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনের কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন। একটি পদক্ষেপ কমনসেন্সের ভিত্তিতে হলো, কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে প্রধানতম ব্যক্তি যদি অযোগ্য হয়ে যান, তাহলে স্বাভাবিকভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যিনি থাকেন, তিনি যোগ্য থাকেন। এ ছাড়া এখানে ভিন্ন কোনো পদক্ষেপ হবে কিনা, এ ব্যাপারটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবেন। ওখানে দ্বিতীয় হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের মো. আনোয়ার সিদ্দিকী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর