মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের মা
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ AM

দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কবর জিয়ারত করে দ্রুত বিচারের আশ্বাস এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর

মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের মা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০৭/২০২৬ ০৬:০২:২৩ PM

মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের মা


সিলেটে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ঠিক দুই বছর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান এই তরুণ সংবাদকর্মী। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত এই সাংবাদিকের পরিবার দুই বছর পরও অপেক্ষা করছে ন্যায়বিচারের।

মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তুরাবের মা। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচার দেখার আকুতি জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীকে হারানো তুরাবের স্ত্রী তানিয়া ইসলামও এখনও অপেক্ষা করছেন ন্যায়বিচারের।

রোববার বাদ যোহর বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারত করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তুরাবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

কবর জিয়ারত শেষে তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুরাবের মা বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। মৃত্যুর আগে শুধু ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

এটিএম তুরাব দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান, দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার, সাপ্তাহিক সপ্তাহ জুড়ে-এর বার্তা সম্পাদক এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন।

তুরাব হত্যার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ জাবুর। মামলাটি প্রথমে সিলেট কোতোয়ালি থানা তদন্ত করলেও পরে দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। বর্তমানে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জ্বল সিংহ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে এজাহারভুক্ত আরও কয়েকজন আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তুরাবের স্বজনরা।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই সাংবাদিকের পরিবার আজও একটি সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে সব আসামিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার সম্পন্নের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর