চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৯ PM

চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/১০/২০২৬ ০৩:৩০:৪৩ PM

চুনারুঘাট থানায় ১২ দিনে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় একের পর এক অভিযোগ ঘিরে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ঘুষ গ্রহণ এবং ইয়াবা দিয়ে একটি পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে প্রত্যাহার করা হয়। এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এর ঠিক একদিন আগে, সোমবার (৫ অক্টোবর), প্রত্যাহার করা হয় এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে। তাঁর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তের কাজে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গিয়ে এএসআই ইলিয়াস ওই মন্তব্য করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁর বক্তব্য ধারণ করেন।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) মো. রাফিউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে একই থানার চার সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর