সিলেটের ট্রেনের টিকিট কয়েক মিনিটেই উধাও, তদন্তে পিবিআই
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ PM

সিলেটের ট্রেনের টিকিট কয়েক মিনিটেই উধাও, তদন্তে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/১০/২০২৬ ০৬:২৬:৩০ PM

সিলেটের ট্রেনের টিকিট কয়েক মিনিটেই উধাও, তদন্তে পিবিআই


সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক টিকিট উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। টিকিট বিক্রির এই অস্বাভাবিক গতির পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। বুধবার মামলার নথি পিবিআই সিলেটে পৌঁছানোর পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিলেটের উপ-পরিদর্শক আব্দুল আহাদ।

মামলার নথি অনুযায়ী, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট দিনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি আদালতেরও নজরে আসে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট পরিদর্শন করে দেখা যায়, কোনো একটি দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার অল্প সময়ের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রির বিষয়টি আদালতের সন্দেহের কারণ হয়।

এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে কেউ ঝুঁকি নিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করছেন। এতে বৈধ টিকিটধারী যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং ট্রেনে বাড়ছে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি চক্র টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করে পরে তা বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন শিল্পের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে অনলাইনে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি, মজুতদারি কিংবা কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটি এখনো প্রমাণিত নয়। পিবিআইয়ের তদন্তেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

তদন্তে মূলত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে একই সময়ে এত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা রয়েছে কি না।

বিষয়টি ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমানের নজরে আসে। টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যালোচনার পর কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে সিআর মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার, পিবিআই সিলেটকে নির্দেশ দেন আদালত।

বুধবার মামলার নথি পিবিআই সিলেটে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিকিট গায়েব হয়ে যাওয়ার পেছনে আসলে কী ঘটছে, আর এর সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি চক্রের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর