মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র কৃষকদের পুনর্বাসন সহায়তার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ইসলামপুর ইউনিয়নে একত্রিত হয়ে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং তাদের দাবি তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকদের সহায়তার জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস-এর সহযোগিতায় ‘সূচনা প্রকল্প’ ৪০০ জন উপকারভোগীর একটি তালিকা প্রস্তুত করে। প্রকল্পের মাঠকর্মীরা শুরুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করলেও চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক সচ্ছল ব্যক্তিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অথচ বন্যায় সব হারানো হতদরিদ্র কৃষকরা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আপরোজ মিয়া এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিজ এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫ জনের নামের তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র ২৪ জনের নাম রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আমার দেওয়া মাত্র ১০ জনের নাম রয়েছে, বাকি নামগুলো তারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সূচনা প্রকল্পের পরিচালক তালেব মিয়া বলেন, এখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের অনুদান সীমিত হওয়ায় সবাইকে এই তালিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করেছি যোগ্যদের বেছে নিতে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ বাড়লে বাকিদের সহায়তার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, তালিকায় জালিয়াতি করে প্রকৃত দুর্গতদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 








