নারীরা তেলাপোকাকে ভয় পেলেও বিড়াল কেন ভালোবাসেন?
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ AM

নারীরা তেলাপোকাকে ভয় পেলেও বিড়াল কেন ভালোবাসেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৮/২০২৬ ১০:৫৩:১১ AM

নারীরা তেলাপোকাকে ভয় পেলেও বিড়াল কেন ভালোবাসেন?


তেলাপোকা দেখলেই অনেকের ভয়, অস্বস্তি বা বিরক্তি শুরু হয়ে যায়। অথচ সেই একই মানুষকে আবার প্রিয় পোষ্য বিড়ালকে কোলে নিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে দেখা যায়। বাইরে থেকে দেখলে বিষয়টি বেশ মজার- একটি ছোট পোকা দেখেই আতঙ্ক, আর তার চেয়ে অনেক বড় একটি প্রাণীকে আদর করে কাছে টেনে নেওয়া! আসলে এর পেছনে রয়েছে পরিচিতি, নিরাপত্তাবোধ, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধনের সহজ মনস্তত্ত্ব। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভয় এবং ভালোবাসা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের আবেগ। কোনো কিছুকে ভয় পাওয়ার অর্থ সেটিকে অপছন্দ করা বা তার প্রতি নেতিবাচক অনুভূতি থাকা। অন্যদিকে ভালোবাসা তৈরি হয় পরিচিতি, যত্ন, নিরাপত্তা এবং ইতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে।

তেলাপোকা মানুষের কাছে সাধারণত অপরিচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি প্রাণী। এটি হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে, দ্রুত দৌড়াতে পারে বা হুট করে উড়ে যেতে পারে। এই অনিশ্চিত গতিবিধি মস্তিষ্কে সতর্কতার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। ফলে তেলাপোকাকে দেখলে ভয় বা বিরক্তি তৈরি হয়।

ভালোবাসার সঙ্গে তৈরি হয় আবেগের বন্ধন

পোষা প্রাণীকে নিয়মিত খাওয়ানো, যত্ন নেওয়া, অসুস্থ হলে দেখাশোনা করা কিংবা প্রতিদিন তার সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে একটি আবেগগত বন্ধন তৈরি হতে পারে। এই বন্ধনের কারণে বিড়ালকে মানুষ শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখেন না, অনেকের কাছে সে পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে ওঠে। তাই বিড়ালকে কোলে নেওয়ার মধ্যে শুধু প্রাণীকে আদর করার বিষয় থাকে না, নিজের পরিচিত ও প্রিয় একটি সঙ্গীর কাছ থেকে মানসিক স্বস্তি পাওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে।

তেলাপোকা দেখলে ভয় পাওয়ার কারণ

মানুষের মস্তিষ্ক সম্ভাব্য বিপদ দ্রুত শনাক্ত করার জন্য তৈরি। কোনো প্রাণী হঠাৎ দ্রুত নড়াচড়া করলে মস্তিষ্ক সেটিকে আগে নিরাপদ কি না, তা যাচাই করার বদলে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তেলাপোকার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে আরও যুক্ত হতে পারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারণা। ছোটবেলা থেকেই যদি কেউ শুনে থাকেন যে তেলাপোকা নোংরা, ক্ষতিকর বা ভয়ংকর, তাহলে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা আরও শক্ত হতে পারে। ফলে বাস্তবে প্রাণীটি তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক বিপদ না হলেও মস্তিষ্কে আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

বিড়ালকে দেখে ভয় লাগে না কেন?

বিড়াল সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। একটি পোষা বিড়ালের সঙ্গে মানুষ প্রতিদিন সময় কাটান। তার ডাক, হাঁটার ধরন, খাওয়ার সময়, ঘুমানোর অভ্যাসে সবই ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানে পরিচিতি অনেক সময় নিরাপত্তার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে যে প্রাণীটিকে মানুষ নিয়মিত দেখছেন এবং যার আচরণ সম্পর্কে ধারণা আছে, তার কাছাকাছি থাকা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে।

তেলাপোকার ক্ষেত্রে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা

তেলাপোকা সাধারণত মানুষের জীবনে এমন ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করে না। বরং তার সঙ্গে যুক্ত থাকে হঠাৎ দেখা পাওয়া, দ্রুত নড়াচড়া, অপরিচ্ছন্নতার ধারণা কিংবা ভয় পাওয়ার পুরোনো অভিজ্ঞতা। ফলে মস্তিষ্কের কাছে বিড়াল হয়ে ওঠে পরিচিত ও নিরাপদ, আর তেলাপোকা হয়ে ওঠে অপরিচিত ও অস্বস্তিকর। এই দুই প্রাণীর প্রতি সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া তাই অস্বাভাবিক নয়।

ভয় পেলেই বিড়ালকে কোলে নেওয়া

বিড়ালকে ভালোবাসা এবং তার কাছে স্বস্তি পাওয়া স্বাভাবিক। তবে ভয় পেলেই তাকে জোর করে কোলে নেওয়া উচিত নয়। কোনো বিড়াল যদি বিরক্ত হয়, সরে যেতে চায় বা অস্বস্তি প্রকাশ করে, তাকে নিজের জায়গায় থাকতে দেওয়া দরকার। তেলাপোকা দেখলে ভয় পাওয়া আর বিড়ালকে গভীরভাবে ভালোবাসা দুটি আচরণের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। মানুষের মস্তিষ্ক অচেনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্দীপনার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়, আবার পরিচিত ও প্রিয় প্রাণীর উপস্থিতিতে নিরাপত্তা খুঁজে নিতে পারে। তাই তেলাপোকা দেখে আতঙ্কিত হয়ে প্রিয় বিড়ালকে ভালোবাসার পাশাপাশি পরিচিত নিরাপত্তার কাছাকাছি থাকারও একটি স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া।

আজকের সিলেট/জেএন/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর