মাধবপুরে যক্ষ্মার প্রকোপ বাড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত ওষুধ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM

মাধবপুরে যক্ষ্মার প্রকোপ বাড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত ওষুধ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯/০৮/২০২৬ ০৩:০৩:৫৩ PM

মাধবপুরে যক্ষ্মার প্রকোপ বাড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত ওষুধ


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চা বাগানগুলোতে বাড়ছে যক্ষ্মার প্রকোপ। এরই মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত টু এফডিসি ট্যাবলেটের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন চা শ্রমিকসহ দরিদ্র রোগীরা।

মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, জগদীশপুর, বৈকুণ্ঠপুর, সুরমা ও তেলিয়াপাড়া এই পাঁচটি চা বাগানে যক্ষ্মার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ২৫ জন, জুনে ২৪ জন এবং জুলাইয়ে ২৬ জন নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি আগস্টেও নতুন রোগী শনাক্তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

তেলিয়াপাড়া হীড বাংলাদেশ যক্ষ্মা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী রাজু গোয়ালা বলেন, চা বাগানের অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বসবাসের কারণে সেখানে যক্ষ্মার বিস্তার বেশি। স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে রোগটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নার ও তেলিয়াপাড়া হীড কর্নারে বর্তমানে নিবন্ধিত যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩৫০। এসব কেন্দ্রে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন রোগী কফ পরীক্ষা করাতে আসেন। তাদের একটি অংশের শরীরে যক্ষ্মার জীবাণু শনাক্ত হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী একজন রোগীকে প্রতিদিন দুই থেকে চারটি ‘টু এফডিসি’ ট্যাবলেট সেবন করতে হয়। তবে সরবরাহে সংকট থাকায় বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী রোগীদের ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সুরমা চা বাগানের রোগী রবি মুন্ডা বলেন, আগে মাসে একবার হাসপাতালে এসে পুরো মাসের ওষুধ নেওয়া যেত। এখন ওষুধের সংকটের কারণে মাসে তিন-চারবার আসতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত খরচ বাড়ছে, পাশাপাশি কাজের সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

একই বাগানের রোগী লাল মোহন বাক্তি বলেন, যক্ষ্মার ওষুধ নিয়মিত সেবন না করলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পাশাপাশি জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। এতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর ওষুধ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই ওষুধের ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা করছেন তারা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর