২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সিলেটে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালেও প্রায় কাছাকাছি ছিল পাসের হার। তখন জিপিএ-৫এর সংখ্যাও ছিল এক হাজারের অনেক নিচে। সেই সময়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সিলেটে ফলাফলের পুরো চিত্র পাল্টে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব নেওয়ার পর। ২০০৯ সালে এক লাফে পাসের হার চলে যায় ৭৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা চলে যায় এক হাজার ৮৯৬-এ। অর্থাৎ পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ বড় ধরনের চমক দেখায় শেখ হাসিনার সরকার। এরপর বিগত দেড় দশক এসএসসির ফলাফলে সেই ধারা অব্যাহত ছিল।
১৮ বছর পর সেই পুরোনো ধারার মতো এসএসসির ফলাফল হয়েছে। ১৮ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার সিলেট বোর্ডে। এবছর পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
তবে পাসের হারে দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে সিলেট তলানিতে থাকলেও জিপিএ-৫ বড় পরিবর্তন ঘটেনি। বরং গত বছরের তুলনায় এবছর জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৮৩৬ জন। গত বছর পেয়েছিল তিন হাজার ৬১৪ জন।
সোমবার সকালে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।
পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবছরের পরীক্ষার্থীদের দুই বছরে দুই সিলেবাসে পড়তে হয়েছে। যে কারণে পাসের হারে একটা প্রভাব পড়েছে। এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল করায় গড় ফলাফল খারাপ হয়েছে।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষা অনেকটা কড়াকড়িভাবে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল।
এবছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক হাজার ৭৪৫ জন ছেলে ও দুই হাজার ৯১ জন মেয়ে। এবছর শতভাগ পাস করেছে সিলেটের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০১ সালে সিলেটে পাসের হার ছিল ৩৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল দুজন। পরের বছর ২০০২ সালে পাসের হার ছিল ৪১ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ১৮ জন, ২০০৩ সালে পাসের হার ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ১০ জন, ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৩৪৮ জন এবং ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ ৪৭৩ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে এসএসসিতে সিলেটে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। জিপিএ-৫ ছিল সাত হাজার ৫৬৫টি। পরের বছর ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাঁচ হাজার ৪৫২টি।
২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাঁচ হাজার ৪৭১ জন, ২০২৫ সালে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ তিন হাজার ৬১৪ জন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








