লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে গ্রিস যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দুই যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তাড়ল ইউনিয়নের ধলচান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়ার সন্ধান মিললেও ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার রহমানের (২৬) এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সানোয়ার রহমান দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের রফিক উল্লার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালালের মাধ্যমে তিনি লিবিয়ায় যান। গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সানোয়ার ও লোহানীসহ কয়েকজন যুবক দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় যান। পরে গত ৩ আগস্ট সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। যাত্রার পর দুই যুবকের সঙ্গেই পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে দুই পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
সানোয়ারের বাবা রফিক উল্লা বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। ওই সময় সানোয়ার তাকে বলেছিল, ‘২–৩ দিনের মধ্যে গেম হবে।’ এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সন্ধান পাননি।
রফিক উল্লা বলেন, আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। শেষবার কথা বলার পর থেকে তার কোনো খবর পাচ্ছি না। আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চাই।
এদিকে একই পথে নিখোঁজ হওয়া তাড়ল ইউনিয়নের ধলচান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার চাচা মুহিত মিয়া জানান, লোহানী বর্তমানে মিসরে অবস্থান করছেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সানোয়ারের পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, লিবিয়া ও গ্রিসে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর আমরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








