মিডওয়াইফের প্রকল্প শেষ, সেবাশূন্য মধ্যনগরের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ PM

মিডওয়াইফের প্রকল্প শেষ, সেবাশূন্য মধ্যনগরের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৮/২০২৬ ০৯:৫৩:৫৭ AM

মিডওয়াইফের প্রকল্প শেষ, সেবাশূন্য মধ্যনগরের মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র


সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। সীমান্তবর্তী এ উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে প্রায় এক মাস ধরে প্রসব ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক না থাকা এবং একমাত্র মিডওয়াইফের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার এ উপজেলার অর্ধেকের বেশি নারী প্রয়োজনীয় মাতৃত্বকালীন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে দুর্গম হাওর এলাকার অন্তঃসত্ত্বাদের জরুরি সময়ে চিকিৎসা নিতে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। বর্ষায় উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে যাতায়াতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ শয্যাবিশিষ্ট ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত জনবল কখনোই ছিল না। একজন ফার্মাসিস্ট এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ ইউনিট থেকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া মিডওয়াইফ আসমা আক্তারকে দিয়ে সীমিত পরিসরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম চলছিল। সেখানে ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে স্বাভাবিক প্রসব এবং ২৮ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল।

গত ৩১ জুলাই মিডওয়াইফ আসমা আক্তারের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তিনি দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন। তার চলে যাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রটিতে প্রসব ও মাতৃত্বকালীন সেবা কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন্দ্রটির জনবল কাঠামো অনুযায়ী সেখানে দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন ফার্মাসিস্ট থাকার কথা। কিন্তু এসব পদে শুরু থেকেই কোনো স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কয়েক বছর ধরে কেবল একজন ফার্মাসিস্ট ও অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া একজন মিডওয়াইফের মাধ্যমে সেবাটি চালু ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য নিরাপদ প্রসবের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল এই কেন্দ্র। বর্তমানে সেটিও সেবাশূন্য হয়ে পড়ায় প্রসূতিদের ঝুঁকি নিয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বর্ষায় হাওরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের জলি আক্তার বলেন, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সন্তানসম্ভবা নারীদের দূরের কোনো হাসপাতাল বা অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বাকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসবের ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এলাকার নারীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে একজন দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী বা মিডওয়াইফ পদায়ন করা প্রয়োজন।

মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী বলেন, মিডওয়াইফের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাময়িকভাবে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকার দ্রুত নতুন মিডওয়াইফ নিয়োগ দিলে শিগগিরই কেন্দ্রটির সেবা কার্যক্রম আবার চালু করা সম্ভব হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর