আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’ পুলিশের পোশাক পরা নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াছ হোসেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার রাতেই ইলিয়াছ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, এএসআই ইলিয়াছের অনৈতিক মন্তব্যের বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি এ ধরনের দায়িত্বে অবহেলামূলক মন্তব্য করেছেন, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে পুলিশের ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ১ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক করার বক্তব্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও জনরোষ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার দায়ের করা একটি অভিযোগ বা মামলার তদন্তের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াছ হোসেন। তদন্তের সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ঘুষ গ্রহণ নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
সেই সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি কৌশলে তার বক্তব্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াছ হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে বলেই তো কিছু ঘটে! আমি যদি এখন বলি পুলিশে চাকরি করি কিন্তু ঘুষ খাই না, তবে কি আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হব? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এর পরই তাকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








