চুনারুঘাটে এএসআই অতনুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও, একদিন আগেই প্রত্যাহার হন আরেক এএসআই
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ PM

চুনারুঘাটে এএসআই অতনুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও, একদিন আগেই প্রত্যাহার হন আরেক এএসআই

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/১০/২০২৬ ০৩:৪৩:০৮ PM

চুনারুঘাটে এএসআই অতনুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও, একদিন আগেই প্রত্যাহার হন আরেক এএসআই


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন এবং অর্থ লেনদেনের একটি দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। ভিডিওতে তাদের কথাবার্তার কিছু অংশও শোনা যায়। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ধারণের সুনির্দিষ্ট সময় এবং সেখানে হস্তান্তর করা অর্থের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এর আগেও দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

নতুন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটে এএসআই অতনুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাদের অভিযোগ, তিনি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও দুর্ব্যবহার করে অর্থ আদায় করতেন। এসব অভিযোগও এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা ও এর পেছনের পুরো ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এর মাত্র একদিন আগেই একই থানার আরেক এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে ঘুষ গ্রহণ নিয়ে তাঁর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁকে চুনারুঘাট থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

একই থানার দুই এএসআইকে ঘিরে পরপর দুই দিনে ঘুষ-সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় থানার অভ্যন্তরীণ নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ।

এদিকে, নতুন ভিডিওর বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযোগের বিষয়ে এএসআই অতনু বণিকের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তাঁকেও পাওয়া যায়নি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর