সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ন

সিলেটে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৬ ০৬:৫৪:২০ অপরাহ্ন

সিলেটে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু


সিলেট মহানগরের ৪২টি ওয়ার্ডে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে টানা ১৫ দিন। প্রয়োজন হলে কর্মসূচির মেয়াদ ও পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

নগরীর মির্জা জাঙ্গালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮-১৯ মৌসুমে সর্বশেষ সিলেটে বেওয়ারিশ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রায় ৩ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়। এবার ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে চারটি দল কাজ করবে। প্রতিটি দলে থাকবেন পাঁচজন সদস্য—তিনজন ডগ ক্যাচার, একজন টিকাদানকর্মী এবং একজন স্থানীয় প্রতিনিধি। টিকা দেওয়া কুকুরকে শনাক্ত করতে স্থানীয় প্রতিনিধি কুকুরের গায়ে রং দিয়ে চিহ্নিত করবেন। প্রতিটি দল প্রতিদিন অন্তত ১০টি ওয়ার্ডে কাজ করবে।

সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ ও দলবদ্ধভাবে চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁর ফেলে দেওয়া খাবারের সন্ধানে কুকুরগুলো রাস্তায় বের হলে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। শিশু-কিশোরদের ওপর কুকুরের হামলার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতে কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পর সিলেটে এ রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাধারণ মানুষ ও গরুসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন করে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ করার উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি। প্রাণী নিধন না করে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি কর্মসূচি বাস্তবায়নে নগরবাসীর সহযোগিতা চান।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর