মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

জমি নিয়ে বিরোধে হয়রানির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/১০/২০২৬ ০৪:২৭:০৫ অপরাহ্ন

জমি নিয়ে বিরোধে হয়রানির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

গোয়াইনঘাটে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন


সিলেটের গোয়াইনঘাটে বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পরিবার। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাগজপত্র বা প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তমঞ্চে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস শুকুর অভিযোগ করেন, গ্রামের ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিনের লোকজন একটি জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হন। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (নম্বর ০৪/২৪) এবং পরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ আরেকটি মামলা (নম্বর ১২৪) করা হয়।

আব্দুস শুকুরের দাবি, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখে। মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা ও বাড়ি দখলের হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। সেখানে জমি নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা। এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে উল্লেখ করেন পরিবারের সদস্যরা।

জমির মালিকানা নিয়ে প্রতিপক্ষের অভিযোগের জবাবে আব্দুস শুকুর বলেন, বিএস ৬২৩ দাগের জমিতে তাঁরা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ভিত্তিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের প্রাপ্য জমির তুলনায় বর্তমানে কম জমি তাঁদের দখলে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই দাগের জমির একটি অংশ অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন মুসাই মিয়া, মাহমুদ আলী ও তাঁদের পক্ষের লোকজন।

পরিবারটির দাবি, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষ তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে এবং দুটি ঘর ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি রক্ষা করে। এ সময় বিবাদীরা জমি দখলের চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি আপসনামা জমা দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলে বিবাদীদের আচরণের কারণে ছাব্বিশ মৌজার স্থানীয় মুরুব্বিদের উদ্যোগে সালিশের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।

জমি বিক্রির বিষয়ে আব্দুস শুকুর জানান, আইনি জটিলতার কারণে ১৩ শতক জমির দলিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সে সময় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বিকল্প দাগে জমি দেওয়া অথবা উপযুক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার এখনো সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী অর্থ পরিশোধে রাজি রয়েছে বলে জানান তিনি।

আব্দুস শুকুর আরও অভিযোগ করেন, বিএস ৬২৩ দাগের জমির দখল ছাড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রতিপক্ষ গ্রামের মানুষকে উসকে দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কেউ কথা বললে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং জোরপূর্বক গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুস শুকুর।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উসকানিমূলক লাইভ সম্প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর