শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচং-শিবপাশা সড়কে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/১০/২০২৬ ০৯:১৪:৪২ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচং-শিবপাশা সড়কে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য


হবিগঞ্জের বানিয়াচং-শিবপাশা সড়কের আইঞ্জন নামক এলাকায় একটি পুকুরের পাড়ে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। খোলা জায়গায় ব্যাটারি পুড়িয়ে ধাতু সংগ্রহের এ প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর কণা ও রাসায়নিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আশপাশের পরিবেশ, মাটি ও পানির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে বানিয়াচং-শিবপাশা সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাটারি পোড়ানোর সময় ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য এমন পরিস্থিতি বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্যবহৃত ব্যাটারি অনিরাপদভাবে পুড়িয়ে সেখান থেকে সীসাসহ বিভিন্ন ধাতু সংগ্রহের প্রক্রিয়া পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। পুরোনো ব্যাটারিতে থাকা সীসা, অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে বায়ু, মাটি ও পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পুকুরের পাড়ে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে রাসায়নিক বর্জ্য পানিতে মিশে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীসার সংস্পর্শে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর সীসার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ব্যাটারি পোড়ানোর মাধ্যমে সীসা সংগ্রহের মতো কার্যক্রম পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কারখানাটিতে কীভাবে ব্যাটারি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কারখানাটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে কারখানাটির মালিকানা, ব্যাটারি পোড়ানোর পদ্ধতি, শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরিবেশগত অনুমোদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে লোকমুখে এ বিষয়ে শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন। কারখানার মালিকের নাম ও মোবাইল নম্বর পাওয়া গেলে তাঁকে নোটিশ পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহরাব হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় সম্ভাব্য পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, কারখানাটির কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশগত অনুমোদন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করতে হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আজকের সিলেট / জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর