শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

সিলেটে ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮, আহত ৬৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৬ ০৮:৩৫:০৫ অপরাহ্ন

সিলেটে ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮৮, আহত ৬৩০


সিলেটের সড়কে যেন থামছে না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর পড়ে থাকে স্বজন হারানোর হাহাকার, ভেঙে যায় কোনো পরিবারের স্বপ্ন, থমকে যায় কারও জীবনের চেনা ছন্দ। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন। আহত হয়েছেন আরও ৬৩০ জন। পরিসংখ্যানের এই সংখ্যাগুলোর আড়ালে রয়েছে অসংখ্য পরিবারের কান্না আর অপূরণীয় ক্ষতি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সিলেটে মোট ২৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মাসের পর মাস দুর্ঘটনার এই হিসাব যেন সড়কে নিরাপত্তাহীনতারই এক নির্মম চিত্র তুলে ধরছে।

বছরের শুরুতেই জানুয়ারিতে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ জন। মার্চে ২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩২ জন। এপ্রিলে ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে মে মাসে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। ওই মাসে ৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫১ জন।

জুনে ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন, জুলাইয়ে ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন, আগস্টে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন এবং সেপ্টেম্বরে ২৬টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে মে ও আগস্ট। এই দুই মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯৮ জন, যা নয় মাসের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বছরের এই দুই মাসেই সিলেটের সড়ক কেড়ে নিয়েছে প্রায় প্রতি তিনজন নিহতের একজনের প্রাণ।

সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সড়কের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ম অমান্যের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, প্রাণহানির এই হিসাব তারই সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কে চলাচলের প্রতিটি মুহূর্তে সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চলা যে জীবন রক্ষার অন্যতম শর্ত, সে বার্তাও উঠে এসেছে এতে।

সিলেট বিভাগের মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দ্রুতগতির কারণে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর গতিসীমা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কিংবা চিকিৎসার ব্যবস্থা নয়, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

সড়ক কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ চলার পরিসর। সেই পথে প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাই সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার মধ্য দিয়েই কমতে পারে মৃত্যুর এই মিছিল সড়ক হয়ে উঠতে পারে আরও নিরাপদ, আরও নিশ্চিন্ত।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর