সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন। এই আসন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। মর্যাদাপূর্ণ ও ভিআইপি এই আসন নিয়ে ৫ আগষ্টের পর থেকে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তৃণমুলে আলোচনা চলছে আরিফ ও মুক্তাদিরকে নিয়ে।
কেউ বলছেন সিলেট-১ আসনে আরিফ মনোনয়ন পেলে নগরীর কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে আবার কেউ বলছেন মুক্তাদির হলে ভাল; তবে উন্নয়ন করা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে। শেষ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে কে টিকবেন, এ নিয়ে সিলেটের মানুষের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। শুধু ভোটারই না, দলের এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও।
নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আলতাফুর রহমান বলেন, প্রথমে সিলেটের যানজট নিরসন প্রয়োজন। এজন্য আরিফুল হক যেভাবে কাজ করতে পারবেন, সেটা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। গেল ১০ বছরে আরিফুল হক চৌধুরী সাধারণ মানুষের অনেক কাছে চলে গেছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের মধ্যে আরিফুল হক অনেকটা ঠাঁই করে নিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাকে অনেকটা কাছাকাছি পেয়েছেন। সিলেট নগরীর সমস্যা সম্ভাবনা সব বিষয় আরিফুল হকের নখদর্পনে।
রিকশাচালক জমির শেখ বলেন, শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারনে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকতো। এখন সেটি তেমন না চলায় যানজট অনেকটা কমেছে। দূর্ঘটনাও অনেক কমেছে। এছাড়া ফুটপাতও অনেকটা দখলমুক্ত হয়েছে। এজন্য তিনি আরিফুল হককে ধন্যবাদ জানান। এই সিলেটে রিকশা চালাই ২০ বছর। তিনি যেভাবে কাজ করতে পারেন সেটি অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব নয়।
হরিপুরের লেগুনা চালক শামসুল মিয়া বলেন, এই সিলেটের উন্নয়ন আর দেশের সবখানের উন্নয়নের চিত্র কিন্তু এক নয়। আমি কুমিল্লায় দীর্ঘদিন লেগুনা চালিয়েছি। কুমিল্লা সড়ক দেখেন আর সিলেটের সড়ক দেখেন। এই সিলেটের উন্নয়নে কেউ মুখ খুলে না। এখন সিলেটের উন্নয়নে সব থেকে প্রয়োজন শক্তিশালী একজন প্রতিনিধি যিনি সব সময় সবখানে কথা বলতে পারেন।
সিলেট -১ আসন নিয়ে সাধারন মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। কে পাচ্ছেন বিএনপি মনোনয়ন সেটাই আলোচিত হচ্ছে এই মুহুর্তে। বলতে গেলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু আরিফ ও মুক্তাদীর। তাদের মধ্য থেকে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন এমন ধারণাও তৃণমুলের। তবে যাকে দিয়ে সিলেটের উন্নয়ন হবে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠেছে তৃণমুল থেকে। তাদের দুজনের সমঝোতা হলেই আসনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলেও তৃণমুলে চলছে জোর আলোচনা।
নগরীর শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী টিটু চন্দ্র বলেন, সাবেক মেয়র আরিফ সিলেটের মানুষের জন্য আগে কাজ করেছেন। কিন্তু খন্দকার মুক্তাদিরের নেটওয়ার্কও শুনেছি ভালো। তিনি নির্বাচিত হলেও খারাপ হবে না।
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জিহাদ আলম বলেন, আরিফ সাহেব কেমন কাজ করেছেন তা নগরবাসী দেখেছে। তিনি অনেক সময় অসাধ্যকে সাধ্য করেছেন। তবে ৫ আগস্টের পর মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে অনেক হিসাব নিকাষ কষছেন। শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বুজা মুশকিল।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বৃহত্তর সিলেটের বাস্তবতা ২০১৮ সালের নির্বাচনের চিন্তা ভাবনায় হবে না। এইখানে মানুষ ফ্রি এন্ড ফেয়ার নির্বাচনের আশা করছি, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা আশা করবে। যেখানে ফ্যাসিজম নেই, আগে ছিলো নৌকার বিপরীতে সবাই বিএনপিকে ভোট দিতো। এখন বিএনপির সাথে যারা ছিল সবাই নির্বাচনে অংশ নিবে। সিলেটের ভোটের চিত্র ভিন্ন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ১ লাখ ৩০/৩৫ হাজারের মতো। এর মধ্যে সিলেটে বসবাসরত অন্যান্য জেলার বাসিন্দা যারা লাখের উপর। এরপর বিভিন্ন দলের সমর্থক। দীর্ঘদিন পরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এবার দিতে পারবে, সব মিলিয়ে সিলেট-১ গুরুত্বপূর্ণ। এটা ওভারশিওর করতে গেলে তারেক রহমানকে করতে হবে। তিনি যদি আসেন তাহলে সেটার প্রভাব ১৯টি আসনেই পড়বে।
তিনি আরও বলেন, এই কারণে প্রথমেই কইছিলাম, তারেক সাহেব অথবা তার পরিবারের কেউ যদি হন, তাহলে সিলেট বিভাগের সমস্ত নেতাকর্মীরা ঝাপাইয়া পড়বো। মানুষে কনফিডেন্স পাইবো। শাহজালাল সাহেবের পূণ্যভূমি সিলেট, আমি পাবলিক অপিনিয়ন। সাধারণ মানুষের ডিমান্ড বুঝতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের পাশে থাকতে হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








