হাওরে বজ্রপাত আতঙ্কের সঙ্গে অকালবন্যার শঙ্কা
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৩ AM

হাওরে বজ্রপাত আতঙ্কের সঙ্গে অকালবন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৪/২০২৬ ০৯:০৮:১১ AM

হাওরে বজ্রপাত আতঙ্কের সঙ্গে অকালবন্যার শঙ্কা


সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমের শুরু থেকেই একাধিক সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার পর বজ্রপাতের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, আর এখন যোগ হয়েছে অকালবন্যার শঙ্কা। এর মধ্যেই নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানিয়েছে, উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ২৬ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

কৃষকেরা জানান, নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে তারা ধান কাটছেন। হাওরে পানি জমে থাকায় অনেক জায়গায় কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় অনেক হাওরে ধান পাকতেও দেরি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে বুধবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে কৃষকদের সহায়তায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অন্য বছর এ সময় প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়, এবার হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। কৃষকেরা ধান কাটতে না পারলে তা আমাদের জন্য দুঃখজনক হবে।’

এ সংকট মোকাবিলায় ২০ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালুমহাল ও তাহিরপুর সীমান্তের তিনটি শুল্কস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা ধান কাটায় যুক্ত হতে পারেন।

পাউবোর তথ্যমতে, চেরাপুঞ্জিতে গত দুই দিনে ৩৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণে জমির ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, উজানে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় অকালবন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে কিছু স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেখার হাওরের একটি বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ফলে নতুন করে পানি প্রবেশ করছে। তবে অন্যান্য বাঁধ এখনো ঝুঁকিতে নেই বলে জানিয়েছে পাউবো।

এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে—অর্থাৎ এখনো ৮০ শতাংশের বেশি ধান মাঠে রয়ে গেছে।

বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। যদিও পাউবো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিক সংকটে বিপাকে পড়া হাওরের কৃষকেরা এখন দ্রুত ধান ঘরে তোলার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর