আমেরিকার ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে যেসব রোগ থাকলে
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১২:২২ PM

আমেরিকার ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে যেসব রোগ থাকলে

প্রবাস জীবন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/১১/২০২৫ ১০:০১:৪৫ AM

আমেরিকার ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে যেসব রোগ থাকলে


আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভিসা প্রার্থীদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্থূলতার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে তাদের আবেদন বাতিল হতে পারে—এমন নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

ইতিমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত আবেদনকারীরা আমেরিকার জন্য “পাবলিক চার্জ” বা অর্থনৈতিকভাবে বোঝা হয়ে উঠতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয় ঘটাতে পারেন। তাই আবেদন অনুমোদনের আগে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কেএফএফ হেলথ নিউজ জানিয়েছে, নির্দেশনাটি আমেরিকান দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ভিসা প্রক্রিয়ায় কেবল সংক্রামক রোগ, টিকাদান ইতিহাস, মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নীতিমালায় হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, মেটাবলিক ও স্নায়বিক ব্যাধির মতো রোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এসব রোগের চিকিৎসায় কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই ভিসা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারী চিকিৎসা ব্যয় বহনে সক্ষম কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

আবেদনকারী যদি আজীবন চিকিৎসা খরচ নিজে বহন করতে অক্ষম হন এবং সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হয়—তাহলে তার ভিসা বাতিল হতে পারে।

অলাভজনক আইনি সহায়তা সংস্থা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের সিনিয়র অ্যাটর্নি চার্লস হুইলার বলেন, “চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয় মূল্যায়নের ক্ষমতা ভিসা কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া উদ্বেগজনক। তারা চিকিৎসক নন, তাই ব্যক্তিগত ধারণা বা পক্ষপাতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত।”

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের দিকও মূল্যায়ন করতে হবে। সন্তান বা প্রবীণ অভিভাবকের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শারীরিক অক্ষমতা বা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন থাকলে তা আবেদনকারীর কর্মক্ষমতা ও অর্থনৈতিক দায়িত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন আইনজীবী সোফিয়া জেনোভেস বলেন, “এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো আমেরিকায় অভিবাসনের পর কেউ যেন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে না ওঠেন। ভিসা কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীর চিকিৎসা ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ খরচের সম্ভাবনা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।”

সার্বিকভাবে, নতুন এই নীতিমালা আমেরিকায় বসবাসের আবেদনকারীদের চিকিৎসা ইতিহাস, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং পরিবারের স্বাস্থ্য-ঝুঁকি—সবকিছুকেই ভিসা অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর