সিলেটে ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২০ PM

সিলেটে ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩/০৮/২০২৬ ০১:২৪:৪১ PM

সিলেটে ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার


সিলেট নগরীর রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগরের রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, বিয়ানীবাজারের আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এবং রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে, বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ)-এর ছেলে বাবুল মিয়া (৪০)কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম গণমাধ্যমকে জানান, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে বুধবার তিনি ওই বাসায় যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল মিয়া তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান। এতে তাহমিনা রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।

এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুল মিয়ার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে নিহত মো. আব্দুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার আখাখাজনায়। রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার একসময় কয়লা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে ১১১ নম্বরের তিনতলা নিজস্ব বাসাতেই তিনি বসবাস করতেন। ভবনের উপরের ও নিচের তলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতেন এবং তিনি দ্বিতীয় তলায় থাকতেন।

মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে ওই বাসায় তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা থাকতেন। দুটি ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করতেন। আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। 

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর