হবিগঞ্জ ৪ : ফয়সলের ঋণ ১৯১৬ কোটি, স্ত্রীর সম্পদ ৩৩ কোটি
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৩ AM

হবিগঞ্জ ৪ : ফয়সলের ঋণ ১৯১৬ কোটি, স্ত্রীর সম্পদ ৩৩ কোটি

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০১/২০২৬ ১১:১২:৩৪ AM

হবিগঞ্জ ৪ : ফয়সলের ঋণ ১৯১৬ কোটি, স্ত্রীর সম্পদ ৩৩ কোটি


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে হবিগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের আয়, সম্পদ ও মামলার তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শিল্পপতি এসএম ফয়সলের ঘোষিত সম্পদের তুলনায় তার নামে থাকা ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি।  অন্যদিকে কয়েকজন প্রার্থীর আয় ও সম্পদের অঙ্ক তুলনামূলকভাবে কম।

হলফনামা অনুযায়ী, এসএম ফয়সলের তিনটি খাত থেকে গত বছরে আয় ১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৮ হাজার ২৯ টাকা। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৮ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৩১৩ টাকা। তবে চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে তার ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৯১৬ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৭৩৭ টাকা, যা ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তুলনায় প্রায় সাতষট্টি গুণ বেশি।

হলফনামায় তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয়ের কোনো তথ্য উল্লেখ না থাকলেও স্ত্রীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৯৪৭ টাকা, যা স্বামীর ঘোষিত সম্পদের চেয়েও বেশি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের আমলে এসএম ফয়সলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয় এবং বাকি দুটি মামলা আদালত থেকে খারিজ হয়েছে।

ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামী বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন (তাহেরী) হলফনামায় তার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৮ লাখ ৪০ হাজার ২৯২ টাকা। এর মধ্যে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ২২ হাজার ৮৯২ টাকা। স্ত্রীর নামে কোনো অস্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।

তবে নিজের নামে তিনি ৩১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৯২ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নামে এলাকায় ২৩৯ শতক জমি রয়েছে।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমেদ আব্দুল কাদেরের আয়ের একমাত্র উৎস ভবন ভাড়া। এ খাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে তিনি মোট ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পদ হিসেবে রাজধানীতে তার ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত একটি আধাপাকা বাড়ি ও ক্রয়কৃত ১২ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

এ আসনে আরও সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। এবি পার্টির প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেনের বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিনের বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা; তার ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ৫০ হাজার টাকা।

বাসদের প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমানের বাৎসরিক আয় ৭৩ হাজার টাকা। তিনি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকনের বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৩ হাজার টাকা।

ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মো. রেজাউল মোস্তফা হলফনামায় বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। তার ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজনের বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলার সবকটিতেই তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং নিজের নামে প্রায় ৩১ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

জেলায় চারটি আসনের মধ্যে চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটার। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ৯০, নারী ২ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। এখানে ১৮৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৬টি স্থায়ী ও ৪১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর