সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট ২ আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনকারী চার প্রার্থী এবার পুনঃনির্বাচনের দাবীতে আদালতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তারা হচ্ছেন- গণফোরামের প্রার্থী ও বর্তমান এমপি মোকাব্বির খান (উদীয়মান সূর্য), জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া (লাঙ্গল), বিশ্বনাথ পৌর মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান (ট্রাক) এবং তৃণমূল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব (সোনালী আঁশ)।
সোমবার দুপরে নগরীর আকেটি একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তোলে তারা আদালতে যাওয়ার ঘোষনা দেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন বর্জনকারী এই চার প্রার্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান বলেন, গতকাল (ভোটের দিন) যেটি হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ একটি প্রহসনের নির্বাচন। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও ইলেকশন কমিশনের কথায় বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছে। গতকালের এটি কোনো নির্বাচনই ছিলো না তাই আমরা বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্রে করে জোর করে বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখল করে টেবিল কাস্টসহ ব্যাপক অনিয়মের কারণে আমরা ১২টার আগেই ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেই। পরে বেলা ২টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেই আমরা চারজন। আমরা সবাই গতকালের সিলেট-২ আসনের সব কেন্দ্রের ভোট ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং আবারও নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা আমাদের আইনজীবির সঙ্গে পরামর্শ করে দু-এক দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবো।
গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান বলেন, গতকাল আমরা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় ও ইলেকশন কমিশন থেকে আমাদেরকে বার বার বলা হয়েছে- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফ্রি এন্ড ফেয়ার হবে। কিন্তু তাদের কথায়-কাজে মিল পাওয়া যায়নি, প্রহসনের নির্বাচন উপহার দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, আমাকে একটি সেন্টারে অবরুদ্ধ করে রেখে নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা টেবিল কাস্ট করেছেন। আমি বার বার ফোন করেও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি প্রায় দুই ঘণ্টা তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিলাম। এরপরই আমরা ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের এজেন্টদের নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা অনেক কেন্দ্রে ঢুকতেই দেয়নি, অনেক কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার ছিলো না। তবে ভোট চলাকালে সিলেট বিভাগে কয়েকজন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদান করছে ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ওই প্রার্থীরা ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। দুপুরের পর থেকেই প্রার্থীদের থেকে এই ঘোষণা আসতে থাকে।
তৃণমূল বিএনপির আব্দুর রব মল্লিক বলেন, আমি একটি সূত্রে জানতে পেরেছি, আগের রাতেই ৩৮টি কেন্দ্রের ব্যালট প্যাপারে নৌকায় সিল মারা হয়ে গিয়েছিলো। আমরা এই ৪ প্রার্থী দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়েছি। সেখানকার সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা এখানেও করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একটি প্রহসনের নির্বাচন আমাদেরকে উপহার দেওয়া হয়েছি। আমরা এ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃভোটের আবেদন করছি। পাশাপাশি আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, সিলেট ২ আসনে ভোট গণনা শেষে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি ও নৌকার প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরীকে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








