সরকারি গেজেটে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রায় আট বছর পরও জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবেই রয়ে গেছেন শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার মানুষ। ফলে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা শায়েস্তাগঞ্জে পাওয়া গেলেও জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও ভোটারসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তাঁদের ছুটতে হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায়।
সংশ্লিষ্ট গেজেট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই গেজেটে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নের ১৫২ নম্বর এসএ জেএলভুক্ত বড়চর এবং ১৫১ নম্বর এসএ জেএলভুক্ত বাগুনীপাড়া মৌজাকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পৃথক গেজেটে মৌজা দুটিকে নিজামপুর ইউনিয়ন থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় আট বছর পার হলেও ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি।
এখনও বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার ভোটাররা নিজামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এতে একই নাগরিককে সেবার ধরন অনুযায়ী কখনও শায়েস্তাগঞ্জ, আবার কখনও হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমির নামজারি, খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন করসহ ভূমি-সংক্রান্ত কাজ শায়েস্তাগঞ্জে করা গেলেও নাগরিক সনদ এবং ভোটারসংক্রান্ত কাজে যেতে হয় হবিগঞ্জ সদর উপজেলায়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক আলী বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী আমরা শায়েস্তাগঞ্জের বাসিন্দা। অথচ ভোটার তালিকায় এখনও আগের ইউনিয়নে রয়েছি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।’
আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ বলেন, ‘গেজেটে মৌজা দুটি শায়েস্তাগঞ্জের অন্তর্ভুক্ত হলে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকাতেও তার প্রতিফলন থাকা উচিত।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ বলেন, বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ জানান, বিষয়টির জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএনওকে প্রধান করে তদন্ত ও পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সীমানা সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বড়চর ও বাগুনীপাড়া মৌজার সীমানা নির্ধারণ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে গেজেট অনুযায়ী দুই মৌজার বাসিন্দাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








