ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ, তদন্তে মিলল না সম্পৃক্ততার প্রমাণ
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ PM

ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ, তদন্তে মিলল না সম্পৃক্ততার প্রমাণ

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫/০৯/২০২৬ ০৬:৫২:০২ PM

ইয়াবা দিয়ে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ, তদন্তে মিলল না সম্পৃক্ততার প্রমাণ


হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে বাবা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগের পক্ষে মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রায় সাত ঘণ্টা থানায় রাখার পর তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড় এলাকায়। ভুক্তভোগীরা হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)। অভিযোগের বিষয়ে চুনারুঘাট থানার এসআই মাসুম আল মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে।

গতকাল সকালে ওই বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ছোট ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাট যাচ্ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছানোর পর এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরে তাঁদের তল্লাশির নামে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনজনকেই পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কালিশিরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ লোকজনকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কাছে জানানোর আহ্বান জানান। তাঁদের আহ্বানের পর দুপুরের দিকে এলাকাবাসী থানার সামনে থেকে সরে যান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। আটক ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে আমরা জানি। ঘটনার কথা শুনে থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ পুলিশের সহায়তায় আমার স্বামীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে এমন ঘটনা সাজাবে, তা কখনো ভাবিনি।’

কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা সুরত আলী বলেন, ঘটনাটি ষড়যন্ত্র করে সাজানো হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, আইনের পোশাক ব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মামুনের মুঠোফোনে কল দিয়ে ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে আটককৃতদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর