সিলেট নগরির ২৭নং ওয়ার্ডের পাঠানপাড়ায় একটি ভূমিখেকো চক্র কর্তৃক সরকারি ভূমি দখলের ব্যাপারে অবশেষে টনক নড়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে সওজ-এর কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে কাগজাত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ভূমির মালিকানা যে সওজের, এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তারপরও ব্যক্তি মালিকানার দাবিদার দখলদারিত্বে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে নিজেদের কাগজপত্র নিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় সওজ কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার নগরির দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়া এলাকায় সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়ক সংলগ্ন সওজ কর্তৃপক্ষের ৪ শতক ভূমিতে আকস্মিক একটি ভূমিখেকো চক্র সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করতে থাকে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের স্থানীয় নেতা নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে চক্রটি সীমানা দেয়াল নির্মাণ শুরু করলে ভূমি সংলগ্ন স্থানীয় একটি দৈনিকের কার্যালয় এবং মোটর গ্যারেজের কর্মীরা তাঁতে বাধা দেন। কারণ, সরকারি এ ভূমির ঠিক পেছনেই রয়েছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবী, স্থানীয় পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কাওছার আহমদ শিবলুর মালিকানাধীন দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকার অফিস এবং তার পিছনে একটি কার ওয়াশ প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)র মোগলবাজার থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজনা নিরসন করে। পুলিশ দখলদার পক্ষকে দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে জায়গার মালিকানার দাবিদার প্রমাণের জন্য কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
দৈনিক জৈন্তাবার্তা ও কার ওয়াশ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, ২৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তৌফিক বক্স লিপন এবং ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতার রশীদ চৌধুরীর যোগসাজশে ভূমিখেকো নাছির উদ্দিন চক্র সরকারি এই ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। অথচ গোটাটিকর মৌজার ১৯নং শিটের তথ্য এবং সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী ৬৫০১নং দাগের এই ভূমির প্রকৃত মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। আর উপরোক্ত দাগের ঠিক পিছনের ৬৫০৩ নং দাগের মালিক বর্ণিত দৈনিক জৈন্তাবার্তা পত্রিকা ও কার ওয়াশ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী কাওছার আহমদ শিবলু। বিএস জরিপের মৌজা ম্যাপ এবং প্রিন্ট পর্চার তথ্যমতেও অনুরূপ উল্লেখ রয়েছে।
প্রবাসী কাওছার আহমদ শিবলু এবং স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, ৬৫০১ দাগের সওজের মালিকানাধীন সরকারি এই ভূমি জবরদখলের জন্য একটি ভূমিখেকো চক্র দীর্ঘদিন থেকে নানাভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিগত ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় ওই চক্রটি উক্ত সরকারি ভূমি জবরদখল করে তথায় কয়েকটি দোকানকোটা তৈরী করে ভাড়া দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে দখলদার চক্র কর্তৃক নির্মিত দোকানকোটা উচ্ছেদ করে খালি ভূমি সওজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। সর্বশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সওজ কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা দখলিভূমি পরিদর্শন করেন এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ভূমি মালিকানার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি তারা ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় নগরির চৌহাট্টাস্থ সওজ-এর বিভাগীয় প্রধান কার্যালয়ে মালিকানার দাবিদার ব্যক্তিবর্গকে নিজ নিজ কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানান।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









