হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় জন্ম নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা পরিষদে এসেও অনেক সেবা প্রত্যাশী কাজ না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথীকে পরিকল্পনা কমিশনে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (৩ আগস্ট) সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে পরিকল্পনা কমিশনে ন্যস্ত করা হয়। ওই আদেশের পর বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পদটি শূন্য রয়েছে।
ইউএনও না থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ও অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কাজে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ইউএনও যোগদান না করায় পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় ক্ষমতা না পাওয়ায় জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে পারছেন না।
ফলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে উপজেলা পরিষদে আসা মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে এসে সেবা না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
আমির মিয়া নামে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, জন্ম নিবন্ধনের একটি কাজ নিয়ে উপজেলা পরিষদে এসেছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবই আছে। কিন্তু ইউএনও না থাকায় কাজ হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। দূর থেকে এসে এভাবে ফিরে যেতে খুবই ভোগান্তি হচ্ছে।
আরেক সেবা প্রত্যাশী হালিমা বেগম বলেন, জন্ম নিবন্ধন এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। শিক্ষা, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন কাজে এটি প্রয়োজন হয়। অথচ শুধু কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সার্টিফিকেট সহকারী আসিফ মুক্তাদির জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মহোদয়কে দিয়ে একটা আইডি খোলার। আশা করছি একটা সমাধান আসতে পারে। আর নতুন ইউএনও যোগদানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আপাতত নেই।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা করে নাগরিক সেবা স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান তারা।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








