বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো হিসেবে যাত্রা শুরু করল ‘ডোমেস্টিক ৩’ বা ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট। তিন ফরম্যাটের এই আয়োজনের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে বিসিবি। দলগুলো হলো এইস ব্লুস্টারস, ফরচুন গ্রুপ, সিটিজেনস ব্যাংক, ওয়ালটন গ্রুপ, সেভেন সিংস সিমেন্ট এবং একমি।
তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে আয়োজন হলেও টুর্নামেন্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে বিসিবির হাতেই। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিকও ঠিক করে দেবে বোর্ড। অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ডি-থ্রির প্রতিটি দল ২৩ জন করে খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে। আগামী ২৬ অক্টোবর খেলোয়াড়দের নিলাম বা ড্রাফট হওয়ার কথা রয়েছে।
তিন ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে পারে। ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি পর্বের পর আগামী জানুয়ারিতে মাঠে গড়াবে প্রথম শ্রেণির লিগ। এরপর আগামী বছরের মে মাসে ৫০ ওভারের ওয়ানডে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ডি-থ্রির তিন ফরম্যাটের চক্র শেষ হবে।
পুরো টুর্নামেন্টে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১৯টি, ওয়ানডেতে ১৬টি এবং প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতায় ৭টি ম্যাচ থাকবে।
এই কাঠামোয় একটি দল তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বনিম্ন ১২টি থেকে সর্বোচ্চ ১৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। বিসিবির প্রত্যাশা, নিয়মিত ম্যাচের এই সুযোগ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








