সবজির বাজারে আগুন, সিলেটে মধ্যবিত্তের ভরসা এখন আলু-পেঁপে
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ PM

সবজির বাজারে আগুন, সিলেটে মধ্যবিত্তের ভরসা এখন আলু-পেঁপে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৯/২০২৬ ০১:৩৭:৫৭ PM

সবজির বাজারে আগুন, সিলেটে মধ্যবিত্তের ভরসা এখন আলু-পেঁপে


নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সিলেটে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। বাজারের তালিকায় একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠলেও সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে সবজির বাজার। লেবু, ডিম ও মোরগের দামও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের আলু ও পেঁপেকেই এখন অনেকটা ভরসা করছেন সীমিত আয়ের ক্রেতারা। 

বুধবার সিলেটের বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতি হালি লেবু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কুমড়ো জালি ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, চিচিঙা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা এবং কচুমুখি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এই চড়া বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে পেঁপে ও আলু। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। আর আলু মিলছে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, সারা বছরই আলু প্রায় একই দামে বিক্রি হয়েছে। ফলে অন্যান্য সবজির দাম বাড়লেও আলু এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।

সবজির বাজারের এই চিত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মুরগির দামও। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা এবং লাল মুরগি প্রতি পিস ৬৮০ টাকা দরে। লাল মোরগের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে ডিমের বাজারেও। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।

মদিনা মার্কেটের মোরগের ব্যবসায়ী সজিব হোসেন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও লাল মোরগের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ডিমের দামেও।

মদিনা মার্কেট এলাকার সবজি বিক্রেতা সাইদ উদ্দিন বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজি আসতে আরও মাস দুয়েক সময় লাগবে। তখন সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, এ বছর দেশে আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ভারত থেকেও আলু আসছে। এ কারণে এ বছর আলুর দাম সবচেয়ে কম।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, তাঁদের আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনের বাজারে খরচ বাড়ছে। ফলে সীমিত আয়ের সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামের সামঞ্জস্য না থাকায় আগের তুলনায় বাজারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। একই পরিমাণ টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও আগের চেয়ে অনেক কম পণ্য কিনতে হচ্ছে তাঁদের।

আম্বরখানা এলাকায় সবজি কিনতে আসা আব্দুল মমিন বলেন, আলু আর পেঁপে ছাড়া কেনার মতো কিছু নেই। বাজারে শীতের সবজি না এলে দাম কমবে বলে মনে হয় না।

শুধু সবজি, ডিম ও মুরগি নয় বাড়তি দামের চাপ রয়েছে আটা-ময়দাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যেও। খোলা ও প্যাকেটজাত দুই ধরনের ময়দার দামই প্রতি কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে। একইভাবে খোলা ও প্যাকেটজাত আটার দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত।

চলতি সপ্তাহে বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০ টাকা, মসুর ডাল ৮৫ থেকে ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং আদা ১৮০ টাকা দরে। মটর ডালের দাম কেজি ৬৫ টাকা। এসব নিত্যপণ্যের মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

ফলে একদিকে সবজির বাড়তি দাম, অন্যদিকে ডিম-মোরগ, আটা-ময়দা ও বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ওঠানামা সব মিলিয়ে সিলেটের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজার এখন হিসাব-নিকাশের বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবারকে আগের চেয়ে কম পরিমাণে সবজি ও নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে। কেউ কেউ খাবারের তালিকাতেও কাটছাঁট করছেন।

বাজারের এই পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং শীতকালীন সবজি বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। আপাতত তাঁদের সংসারের হিসাব মিলছে আলু ও পেঁপের মতো তুলনামূলক সস্তা পণ্যকে কেন্দ্র করেই।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর