শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ট্রেনের টিকিটে এনআইডির নাম না মিললে যাত্রা নয়, ১২ অক্টোবর থেকে অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯/১০/২০২৬ ০৫:১৩:০২ অপরাহ্ন

সিলেটে ট্রেনের টিকিটে এনআইডির নাম না মিললে যাত্রা নয়, ১২ অক্টোবর থেকে অভিযান


অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব শেষ হয়ে যাওয়া এবং কালোবাজারির অভিযোগের মধ্যে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটে থাকা নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও অসংগতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজকে আমরা দেখেছি কিছু কিছু যাত্রীর টিকিটের সঙ্গে এনআইডির নাম মিলছে না। আমরা ৩/৪ দিন সময় দিচ্ছি। ১২ তারিখ থেকে কঠোর অপারেশন শুরু হবে। আমি চেক করবো। রেল স্টেশনে রেগুলার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম অবশ্যই মিলতে হবে। ট্রেনের টিকিট নিয়ে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত তদারকি চালানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের চাহিদা বেড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার তিন-চার মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বেশি দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। অনলাইনে টিকিট না পেয়ে অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বিষয়টি স্বপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে দায়ের করা মিস মামলা নং-০১/২০২৬-এ ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট দিনের টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়।

নথিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় একটি চক্র দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করে থাকতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। তদন্ত করছেন সংস্থাটির উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের স্বপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।

আদালতের এই উদ্যোগের পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসনের অভিযানকে টিকিট কালোবাজারি নিয়ে চলমান অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে সিলেট জেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে নিজ নামে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে নজরদারিও শুরু হয়। তবে কিছুদিন পর সেই তৎপরতা থেমে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরপর আবারও টিকিট সংকট ও কালোবাজারি নিয়ে অভিযোগ বাড়তে থাকে।

এ বিষয়ে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কিনতে হয়, যদিও কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও কেনেন। টিকিট বিক্রিতে রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই বলে দাবি করেন তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর