বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ার অভিযোগ, বকেয়া মজুরির দাবিতে ৩ চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৬ ১০:৩৫:৪০ অপরাহ্ন

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ার অভিযোগ, বকেয়া মজুরির দাবিতে ৩ চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এদিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া মজুরি, রেশন ও দুর্গাপূজার উৎসব বোনাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন কোম্পানির আওতাধীন তিনটি চা বাগানের শ্রমিকরা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বাগানগুলোর চা পাতা উত্তোলন, কারখানাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম।

গত সোমবার থেকে মৌলভীবাজার জেলার মিরতিঙ্গা চা বাগান এবং হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁদ ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিন ধরে শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মিরতিঙ্গা চা বাগানের কার্যালয় ও দেউন্দি টি কোম্পানির কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাস বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাসের দাবিতে হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কর্মবিরতির কারণে চা পাতা উত্তোলন, কারখানার কার্যক্রমসহ বাগানের বিভিন্ন কাজ বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য, বকেয়া পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাগানের কোনো কার্যক্রম চালু হতে দেওয়া হবে না। এমনকি ম্যানেজারের বাংলো, স্টাফদের বাসভবন ও বিভিন্ন স্থাপনায় পাহারাদারের দায়িত্বও পালন করবেন না তাঁরা। এতে বাগানের সম্পদ চুরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, সাপ্তাহিক মজুরি ও দুর্গাপূজার আগে উৎসব বোনাস পরিশোধের জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয় বাগান কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সংকট দেখা দিচ্ছে বলে তাঁদের জানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা দিনমজুর। দিন আনি, দিন খাই। মজুরি না পেলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেশি। বাচ্চাদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা, অথচ আমরা বকেয়া মজুরি ও উৎসব বোনাস পাচ্ছি না।”

প্রদীপ বোনার্জী আরও বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ অর্ধেক বোনাস দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে শ্রমিকদের প্রয়োজন মেটানো কঠিন। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তাঁরা জানেন। এরপরও কৃষি ব্যাংক থেকে দেউন্দি টি কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।

এদিকে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, বর্তমানে কোম্পানির আওতাধীন তিনটি চা বাগানই চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের বকেয়া মজুরি, উৎসব বোনাস ও রেশন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাগানের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিন কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তাঁরা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, কিন্তু এখনো ঋণ পাওয়া যায়নি। আমরা মহাবিপদে পড়েছি। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বোনাস পরিশোধের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করছি।”

কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বাগানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চা উৎপাদনে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে বকেয়া পাওনা না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণপ্রাপ্তি এবং শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, রেশন ও উৎসব বোনাস পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।

আজকের সিলেট / জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর