বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি, রাজস্ব সংস্কারের পরামর্শ আইএমএফের

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/১০/২০২৬ ০৯:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি, রাজস্ব সংস্কারের পরামর্শ আইএমএফের


বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ কাটিয়ে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শুধু মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ জন্য আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে বিষয়ে সংস্থাটির অবস্থান তুলে ধরেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন চন্দ্র।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শুধু কঠোর মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কারও প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতি এই তিন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মূল্যায়ন, দেশের আর্থিক খাত অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের মতে, আর্থিক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।

বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও আইএমএফের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এ অনুপাত প্রায় ৭ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন অনুপাতগুলোর একটি।

আইএমএফ মনে করে, উন্নয়ন ব্যয় মেটানো এবং আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার আনার পাশাপাশি আয় বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংস্থাটি আরও বলছে, অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

এদিকে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সোনালি জৈন চন্দ্র জানান, আগের কর্মসূচির আওতায় আর ঋণের কিস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর গত মে মাসে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সংস্থাটির কাছে নতুন একটি কর্মসূচির সহায়তা চায়।

এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। সফরকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সোনালি জৈন চন্দ্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় উঠে আসা সংস্কারের বিষয়গুলো চলতি বছরের আর্টিকেল ফোর পরামর্শে দেওয়া সুপারিশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জুলাইয়ের সফরের পর থেকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইএমএফের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোনালি জৈন চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্থাটির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আইএমএফ আগ্রহী।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর