সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অল্প সময়ে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। তাঁর মতে, স্টক এক্সচেঞ্জ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে চালানো এসব প্রতারণা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে।
এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে আধুনিক নজরদারি, আইন প্রয়োগ, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ‘ডিজিটাল ডেসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন মমিনুল ইসলাম। ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।
ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারীদের কাছে সময়মতো নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পৌঁছানো জরুরি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণাও নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে কেউ কেউ নিজেদের নিবন্ধিত বা লাইসেন্সধারী আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই লাখ টাকা পাওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা পনজি স্কিমসহ নানা ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এসব কর্মকাণ্ডের বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
মমিনুল ইসলামের ভাষ্য, পুঁজিবাজারের মৌলিক তথ্যের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো কোনো ব্যক্তি কারিগরি বিশ্লেষণের নামে বাজার নিয়ে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যার সঙ্গে বাজারের মৌলিক অবস্থার সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসইর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার কাজ চলছে।
ডিজিটাল প্রতারণা ঠেকাতে শুধু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতারণামূলক প্রচারণার বিপরীতে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও ইতিবাচক বার্তাও তুলে ধরতে হবে। পুঁজিবাজারে শক্তিশালী ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জনসাধারণের আস্থা তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
পুঁজিবাজারকে দেশের অর্থনীতির কার্যকর ও শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন ডিএসই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর নজরদারি, সচেতনতা এবং যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
অর্থনীতি ডেস্ক 








