বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

খেলাধুলা সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনা জোরদার করে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/১০/২০২৬ ০৯:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন

খেলাধুলা সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনা জোরদার করে: প্রধানমন্ত্রী


খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের আয়োজনে আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন বা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জন্য বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত অনেক প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছেন, যাঁদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের জন্য তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাও জরুরি। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তাঁরা খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে নিতে পারেন।

ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে নিহিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ে সংযত থাকেন এবং পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারি বজায় রাখার অনুরোধ করেন।

তারেক রহমান বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাঁদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাঁদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।

অ্যাথলেটিক্সে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভৌগোলিক অবস্থান বা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’কে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর