হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেতুটি জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানুষের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে। সেতু থাকলেও সেখানে যাওয়ার কার্যকর কোনো পথ নেই। এতে আশপাশের এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে হরষপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হরষপুর রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেনে যাতায়াতের জন্য স্টেশনটিতে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু জামালপুরের সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তাঁরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, সেতু নির্মাণের সময়ই দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হলে এটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। একই সঙ্গে হরষপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতও অনেক সহজ হতো। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখন অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।
প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সরকারি অবকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত হয় না; সেতুর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণও জরুরি।
এলাকাবাসী দ্রুত সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান হবে এবং সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি অবশেষে জনসাধারণের কাজে আসবে।
আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি
শেখ ইমন আহমেদ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে 








