লাইপজিগের বিপক্ষে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোল উৎসব করল রিয়াল মাদ্রিদ। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৪-১ গোলের ব্যবধানে লস ব্লাঙ্কোসরা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিনটি ম্যাচেই জয় নিয়ে ফিরল। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও তিন গোল করে হোসে মরিনিয়োর দল। শেষদিকে এক গোল করে ব্যবধান কমায় লাইপজিগ।
জার্মান ক্লাবটির বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। ৬৪ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি লক্ষ্যে ১১টি শট নেয় রিয়াল। বিপরীতে ৬টি শট লক্ষ্যে ছিল লাইপজিগের। রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেছেন বার্নার্দো সিলভা, আর্দা গুলার, কিলিয়ান এমবাপে ও ইয়ান দিয়োমান্দে।
১৬ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। তবে গুলারের গোলমুখে বাড়ানো পাসে টোকা দিতে পারেননি ভিনিসিয়ুস-এমবাপে। ধারার বিপরীতে লাইপজিগ ২৮ মিনিটে গোল পাওয়ার কাছাকাছি ছিল। তবে ডি-বক্স থেকে নেওয়া জোরালো শট ঠেকিয়েছেন স্বাগতিক গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। সেটি সামলে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে জোরাল শট নিলে ঝাঁপিয়ে ঠেকান লাইপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট।
৪১ মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ানে এগিয়ে আসা ক্রিস্টোফার এনকুনকুর শট ঠেকিয়ে গোলবার অক্ষত রাখেন কোর্তোয়া। এরপরই ডেডলক ভাঙেন রিয়ালের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সিলভা। ফেদে ভালভার্দের কাটব্যাক পেয়ে জোরাল শট নেন গুলার, লাইপজিগ গোলরক্ষক পা বাড়িয়ে সেটা ঠেকালেও তার পায়ের নিচ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। সিলভা দ্রুত ছুটে গিয়ে টোকায় বল জালে ঠেলে দেন। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে এই মৌসুমে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর প্রথম গোল করলেন অভিজ্ঞ এই তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। ভালভার্দের জোরাল শট ঠেকানোর পরই দ্বিতীয় গোলটি খায় লাইপজিগ। জুড বেলিংহ্যামের ক্রসে এমবাপের কম গতির হেড গোললাইনে টোকা দিয়ে ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত করে গুলার। এমবাপে ৮৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। ভিনিসিয়ুসের বদলি নামা দিয়োমান্দের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে এক পলক দেখেই ফরাসি তারকা জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিন ম্যাচেই গোল পেলেন এমবাপে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এটি তার ১২তম গোল।
৮৫ মিনিটে এক গোল শোধ করে টিডিয়াম গোমিস লাইপজিগের পক্ষে ব্যবধান কমান। তবে দুই মিনিটের মাথায় দিয়োমান্দে ডি-বক্সে বুলেট গতির ভলি শটে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে ফের ৪-১ ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলেন। এ নিয়ে সবশেষ তিন ম্যাচেই চার গোল এবং নিজেদের শেষ চার ম্যাচে জয় তুলে নিলো রিয়াল।
লা লিগায় আগামী রোববার এল ক্লাসিকোয় নামার আগে যেন জ্বালানি খুঁজে নিলো মরিনিয়োর শিষ্যরা। ৬ পয়েন্টের ব্যবধানটা সেখানে তারা ঘুচিয়ে নিতে চাইবে। এদিকে, ৩ ম্যাচের সবকটিতে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের অবস্থান চতুর্থ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিএসজি শীর্ষে, এরপর যথাক্রমে অ্যাস্টন ভিলা, লিভারপুল ও রিয়াল বেটিস।
আজকের সিলেট / জেকেএস
ক্রীড়া ডেস্ক 








