শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯/১০/২০২৬ ০৩:৪৯:১৬ অপরাহ্ন

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন


সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) নিহত হওয়ার মামলায় পলাতক সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর তিন আসামি বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচজন পলাতক।

রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগেই আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক থাকার ঘটনায় ক্ষোভ জানান তিনি।

সালমা বেগম বলেন, “এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পান? জামিন পেয়ে কীভাবে তাঁরা পালিয়ে যান?”

ক্ষোভ প্রকাশ করে রায়হানের মা বলেন, “আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না। তাঁরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।”

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা উঠে আসে।

ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে আটক করা হয়। এর আগে কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযুক্তরা হলেন সাবেক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাঁর জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

রায়হান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারের অপেক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হলো। তবে পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার এবং সাজা কার্যকরের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর