শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৬ ১০:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় পেল বাংলাদেশ


স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর উত্তরণের নির্ধারিত সময় থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। ফলে প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় পাচ্ছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্ল্যানারি সভায় বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের ওয়েব টিভিতে সভাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সভায় জি-৭৭-এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের সময় তিন বছর বাড়ানোর খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কোনো দেশের প্রতিনিধি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেননি। ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উত্তরণের সময় বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেন। তবে তাঁরা বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেন, বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে না; এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়।

বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা করে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপনের সুপারিশ করে। পরে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়।

প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে সরকার তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এতে প্রতি বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সহজ শর্তে অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।

অতিরিক্ত তিন বছরকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর