সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সিকৃবির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জসিম উদ্দীন, সিকৃবি

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন

বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সিকৃবির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন


দেশের কৃষি শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপিঠ, কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় দুই দশকছ পদার্পণ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাঁকজমক আয়োজনে এই উৎসব পালিত হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।

এরপর জাতীয় উদযাপন কমিটি-২০২৬ কর্তৃক জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিকৃবি’র সিন্ডিকেট সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসা এর চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এর পরিচালক মোঃ বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসোইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমদাদ হোসেন চৌধুরী । গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিকৃবি’র ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মজুমদার, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর সদস্য-সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল কবির রিজভী বলেন, " কৃষিকে কেন্দ্র করে আমাদের যে অর্থনীতি, সেই অর্থনীতির উপরে বাংলাদেশ এখনো অনেকটা নির্ভরশীল। আমরা বর্তমানে অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়তো এগিয়েছি , কিন্তু কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়, কৃষির অগ্রগতিকে বাদ দিয়ে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি গড়া সম্ভব নয় ।বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের শিক্ষা ও কৃষি এগ্রিয়ে যায়। বিএনপি বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অগ্রগতি সাধন করেছিল তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকাররের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবরে পরেছিল। তারা চেয়েছিল জাতিকে মেধা শুন্য করতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ থুবরে পরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে। এতে সকলের সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কৃষির সমন্বিত নীতিই টেকসই সমৃদ্ধির পথ। পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, কৃষি জমি রক্ষা ও কৃষকের সরাসরি সহায়তায় গড়ে উঠতে পারে টেকসই কৃষি বিপ্লব। কৃষি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি। একটি সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হতে পারে। উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমান, এই চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় না আনলে কৃষির প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব নয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক জমি অব্যবহৃত বা পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনা গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করলে উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সহজ ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে। তবে কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও যাচাই করা জরুরি। উন্নত দেশের ন্যায় সরকার শিক্ষা ঋণ চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে। টেকসই কৃষি বিপ্লব সম্ভব, যদি কৃষি জমি রক্ষা, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার, কৃষকের সরাসরি সহায়তা এবং বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা একসঙ্গে এগোয়। "

প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষির আধুনিকায়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।"

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বলেন, “আমাদের এই আজকের প্রোগ্রামের প্রধান অতিথি রিজভী অত্যন্ত একজন নিরহংকারী ব্যক্তিত্ব, সিম্পল জীবনযাপন করেন। উনি কৃষিকে অনেক ভালোবাসেন এবং উনি কৃষির ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন, কমার্শিয়ালাইজেশন এগুলো নিয়ে ভাবেন। আমরা আশা করবো উনার কাছ থেকে সহযোগিতা পাবো এবং আমাদের কোনো প্রয়োজন হলে উনি আমাদেরকে কাছে টেনে নিবেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ছ নতুন এই চার সপ্তাহ, পাঁচ সপ্তাহে আমি অত্র এলাকার দুইজন মন্ত্রী মহোদয়সহ আরও যত নেতৃবৃন্দ আছেন, যার কাছেই যাই উনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়টাকে অন্যভাবে লালন করেন, খুব ভালোবাসেন এবং নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করেন কী প্রবলেম আছে, বলেন আমরা এটা সমাধান করে দিবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল ২৫ কোটি গাছ লাগাবেন, অ্যাব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৫ লক্ষ গাছ এই ২৫ কোটি থেকে অ্যাব লাগাবে এবং ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উনারা নিজেরাই আমাকে অফার করেছেন যে চলো ওখানে যাই, আমরা গাছ লাগাই। আমরা এখন নতুন বাংলাদেশ গড়বো, সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবো, আমরা আমাদের কাজ দিয়ে প্রমাণ করবো যে আমরা অন্যের চেয়ে ভালো। আশা করছি আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশ গড়তে পারবো, ভালো কিছু করতে পারবো, আমরা সবাই মিলে কাজ করবো-‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে আমরা এগিয়ে যাবো।”

সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর