বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন

তিন বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, গ্রেপ্তার ৪

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪/১১/২০২৬ ১১:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন

তিন বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, গ্রেপ্তার ৪


প্রায় তিন বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা এক হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলেছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে। দীর্ঘ তদন্ত, প্রযুক্তির সহায়তা ও একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহত মো. মহব্বত আলীর দেহাবশেষ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাহানারা বেগম (৩৪), তাঁর স্বামী মো. শাহ আলম (৪২), তাঁর ছোট ভাই মো. ইয়াছিন মিয়া (২৪) এবং মো. জয়নার মিয়া (২৪)।

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মাধবপুর উপজেলায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। শুরুতে মামলাটির তদন্ত করে মাধবপুর থানা পুলিশ। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে। তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি একটি অডিও রেকর্ডের সূত্র ধরে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যান কর্মকর্তারা।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর মাধবপুর পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বামী মো. শাহ আলম এবং দুই দেবর ইয়াছিন মিয়া ও জয়নার মিয়াকে মাধবপুরের মনতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে নিহত মহব্বত আলী জাহানারা বেগমকে অনৈতিক প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জাহানারার স্বামী ও সন্তানকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহানারা বেগম, তাঁর স্বামী এবং দেবররা মহব্বত আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে হত্যার পর মরদেহ গুম করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার শাহ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাধবপুরের রামনগর এলাকায় প্রবাসী রুনা বেগমের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে নিহত মহব্বত আলীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার জাহানারা বেগম ও মো. শাহ আলম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের ভূমিকা শনাক্ত করা এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর