শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

কিছুতেই কমছে না মশার উপদ্রব, ৪০ দিনের ক্রাশ প্রোগ্রামেও মিলছে না স্বস্তি

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬/১১/২০২৬ ০৯:২৯:১৩ পূর্বাহ্ন

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী


সন্ধ্যা নামলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করার ব্যস্ততা। মশার হাত থেকে বাঁচতে কেউ জ্বালাচ্ছেন কয়েল, কেউ ছিটাচ্ছেন স্প্রে। তবু মিলছে না স্বস্তি। সিলেট নগরের অনেক এলাকায় মশার উৎপাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দিন-রাত কোনো সময়ই নির্বিঘ্নে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতের আগমনে বেড়ে যাওয়া এই দুর্ভোগ কমাতে ৪২টি ওয়ার্ডে ৪০ দিনের বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি বা ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কিন্তু ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো ও লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগের পরও নগরবাসীর ভোগান্তি কাটছে না।

নগরের আবাসিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, বহুতল ভবনের পাশেই সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা পড়ে আছে বড় বড় খালি জমি। কোনোটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত, কোথাও কোমরসমান ঝোপঝাড়, কোথাও জমে আছে পানি। আবার কোনো কোনো জমিতে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এসব জমির অনেক মালিক প্রবাসে থাকেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে নিয়মিত পরিচর্যা না হওয়ায় পরিত্যক্ত জমিগুলো মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ হয়ে উঠছে।

সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মশা নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম, ব্যক্তিমালিকানাধীন পরিত্যক্ত জমিতে প্রবেশ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা কঠিন। পাশাপাশি নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কাজের গতি এবং নাগরিকদের অসচেতনতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে কেবল ওষুধ ছিটিয়ে মশার বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিলেটে মশার বংশবিস্তারের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন খালি জমি। এসব জমির মালিকদের একটি অংশ প্রবাসে থাকেন। দেখভালের জন্য দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় সেখানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বিষয়টিকে সিলেটের একটি বিশেষ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘ইউনিক’ সমস্যা।

তিনি বলেন, সিলেটে অনেক খালি প্লটের মালিক প্রবাসী। এসব জমিতে দেখভালের জন্য কোনো কেয়ারটেকার বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি থাকেন না। ফলে পরিচ্ছন্নতা বা মশক নিধনকর্মীরা সেখানে গেলে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায় না।

একলিম আবদীন বলেন, ‘আমরা যখন কোনো জায়গায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে যাই, তখন অনেক সময় মালিকানা দাবি করে কেউ সামনে আসেন না। তবে আমরা একটি কৌশল নিয়েছি। জমিতে আইনি নোটিশ টাঙিয়ে দিলে দেখা যায়, মালিক বা তাঁর প্রতিনিধি যোগাযোগ করছেন। কিন্তু এ ছাড়া আমাদের সামনে এখন তেমন কোনো বিকল্প নেই।’

নাগরিকদের ভোগান্তি বেশি হলে সিটি করপোরেশন বাধ্য হয়ে এসব জমি থেকে ময়লা পরিষ্কার করে নিয়ে আসে বলেও জানান তিনি। তবে এটিকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না এই কর্মকর্তা। প্রবাসী জমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জমি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ কাজে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান।

নালা, ড্রেন ও জমে থাকা পানি মশার বংশবিস্তারের অন্যতম জায়গা। নগরের বিভিন্ন ড্রেন ও ছড়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম মনে করেন, মশক নিধন কার্যক্রমের তুলনায় ড্রেন পরিষ্কারের কাজের গতি কম। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

নিজের এলাকার একটি ড্রেনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের যে গতি, সেই গতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নালা পরিষ্কার করতে পারছে না। আমার নিজের বাসার এলাকা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চালিবন্দরে একটি ড্রেনে গত ছয় দিন ধরে পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। অথচ এই সময়ে তারা ড্রেনটির ১০০ গজ অংশও পরিষ্কার করতে পারেননি। কিন্তু ওই ১০০ গজ এলাকায় মশার ওষুধ ছিটাতে বা লার্ভিসাইড প্রয়োগ করতে আমাদের স্প্রে কর্মীদের মাত্র ১৫ মিনিট লাগে।’

ডা. জাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, একটি ছড়া পরিষ্কার করতে যেখানে এক মাস সময় লাগে, সেখানে কার্যকরভাবে ওষুধ ছিটানোর কাজ দুই দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। তাই ড্রেন ও ছড়া পরিষ্কারের কাজ দ্রুত না হলে মশক নিধনের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ একলিম আবদীন কাজের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর মতে, নগরের ড্রেন ও ছড়ায় ময়লা জমার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও বড় কারণ।

তিনি বলেন, ‘টিমওয়ার্কে কেউ একটু বেশি গতিতে কাজ করবেন, কেউ কম; এটাই স্বাভাবিক। তবে আমাদের কর্মীরা ড্রেন অপরিষ্কার রাখেন না। ড্রেনগুলো ব্যবহার করছেন নাগরিকেরাই। সেগুলো সচল রাখতে সারা বছরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে হয়।’

গত বছরের তুলনায় এবার সিলেটে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা তেমন হয়নি বলেও দাবি করেন একলিম আবদীন। তাঁর মতে, এটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সুফল।

৪২টি ওয়ার্ডজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় সিসিকের বড় সীমাবদ্ধতা জনবলসংকট। প্রয়োজনীয় কর্মীর তুলনায় বর্তমানে মাঠে কাজ করছেন অর্ধেকেরও কম।

প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আগে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও মশক নিধনের কাজে নিয়মিত ৪০ জন কর্মী ছিলেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১১৫ করা হয়েছে। তবে পুরো নগরে কার্যক্রম চালাতে কমপক্ষে ২৪০ জন কর্মী প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করেও এই মুহূর্তে এত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।’

বর্তমানে ৬০ জন স্প্রে কর্মী ও ২০ জন সুপারভাইজার মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তাঁরা প্রতিদিন ১০টি করে ওয়ার্ডে ভাগ হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ওয়ার্ডের আয়তন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান শেষ করতে সাত থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে।

ফলে একটি ওয়ার্ডে অভিযান শেষ করে অন্য এলাকায় যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আগের এলাকাতেই আবার মশার বিস্তার ঘটার আশঙ্কা থাকছে। এতে ধারাবাহিকভাবে মশার ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ছিটানোর পরও মশার উৎপাত না কমার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকের দাবি, ওষুধ ছিটানোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরই আবার মশার ঝাঁক ফিরে আসে। এ কারণে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ওষুধের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করেছেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মশার লার্ভা ধ্বংসে ‘টেমিফস’ এবং পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনে ‘মেলাথিয়ন ৫এস’ ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব ওষুধ কেনা হয় না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা হয়।

ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবার ওষুধ কেনার পর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়িতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ার পরই মাঠপর্যায়ে ওষুধ ব্যবহার করা হয়।’

আগের তুলনায় বর্তমানে ওষুধ ছিটানোর পর গন্ধ কম পাওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সিসিক এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করছে। আগের কিছু ওষুধে তীব্র গন্ধ থাকলেও সেগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ ছিল না। তুলনামূলক বেশি দাম হলেও নিরাপদ ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপস করতে চায় না সিটি করপোরেশন।

নগরে মশার উপদ্রব বাড়ার পেছনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ড্রেন ও ছড়ায় ফেলা হচ্ছে। এতে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে কোথাও কোথাও পানি জমে থাকছে। এসব স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একদিকে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে মশার প্রজনন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য মাসিক নির্ধারিত ফি দিতে অনীহা থেকেও কেউ কেউ ড্রেন ও ছড়ায় বর্জ্য ফেলছেন। মাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা খরচ করে ভ্যানগাড়িতে ময়লা দিতে চান না এমন বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশপাশের ড্রেন বা ছড়ায় বর্জ্য ফেলছেন বলে তাঁদের ধারণা। এতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তবে এ নিয়ে নগরবাসীরও আপত্তি রয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ দেওয়ার পরও বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য আলাদা ফি দিতে হবে কেন, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন।

অন্যদিকে, নিজেদের বাসাবাড়ির ভেতরের ড্রেন পরিষ্কার না রাখা এবং নির্ধারিত ব্যবস্থায় ময়লা না ফেলার প্রবণতাও পরিস্থিতি জটিল করছে। ফলে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের সঙ্গে নেওয়া বর্জ্য কর মূলত নগরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, নালা-ড্রেন সচল রাখা এবং প্রাকৃতিক ছড়া ও খাল পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যয় করা হয়। অন্যদিকে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্থানীয় ক্লাব ও সংগঠন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যানগাড়ি পরিচালিত হয়।

তিনি জানান, বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহকারী ভ্যানচালকদের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক ফি নেওয়া প্রয়োজন।

একলিম আবদীন বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী, একটি ভ্যানগাড়ি প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০টি বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করতে পারে। প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ন্যূনতম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা না পেলে ভ্যানচালকের আয় ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা কঠিন।’

বাড়ি থেকে নিয়মিত ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে অনেকের অনীহা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

নগরের প্রধান ড্রেন ও ছড়া পরিষ্কারের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন ও বাসাবাড়ির ভেতরের ড্রেন পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনেক বাসিন্দার দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান।

একলিম আবদীন বলেন, ‘আমাদের বড় ব্যর্থতার জায়গা হলো বাসাবাড়ির ভেতরের ব্যক্তিগত ড্রেনগুলো। এসব ড্রেন পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জমি বা ভবনের মালিকের। কিন্তু অনেকেই নিজেদের ড্রেন পরিষ্কার করতে চান না।’

দক্ষিণ সুরমার নসিবা খাতুন স্কুল এলাকা, ঝালোপাড়া ও ভার্থখলায় পরিদর্শনে গিয়ে কিছু বাসিন্দাকে ময়লা সংগ্রহকারী ভ্যানে বর্জ্য না দিয়ে ব্যক্তিগত ড্রেন কিংবা ছড়ায় ফেলতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। এতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে শীত ও শুকনা মৌসুমে নগরের প্রধান ড্রেনগুলো পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়ার্ডভিত্তিক মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের কাজও চলছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেই। ফলে ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিকদের সমস্যা শোনা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে কাউন্সিলররা সরাসরি এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সমস্যা শুনতেন। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা না থাকায় নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তিনি বলেন, ‘তিন বিভাগের সমন্বয়ের কথা বললে আমি ১০০-এর মধ্যে ৯৯ নম্বর দেব। আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। প্রশাসক মহোদয়ের নেতৃত্ব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে আমরা একটি দল হিসেবে কাজ করছি।’

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাউন্সিলর না থাকায় সিসিকের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও বিধিবিধান মেনে কাজ করলেও জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা সরাসরি বুঝতে পারেন। ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পটপরিবর্তনের পর প্রায় ১৫-১৬ মাস আমরা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অধীনে ছিলাম। আগের আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।’

সব মিলিয়ে সিলেট নগরে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, প্রয়োজন পরিত্যক্ত জমি পরিষ্কার, ড্রেন-ছড়া সচল রাখা, পর্যাপ্ত জনবল এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ। সিটি করপোরেশনের চলমান ৪০ দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি এসব প্রতিবন্ধকতা কতটা দূর করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে নগরবাসীর স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর