সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ যেন খুঁজেই পাচ্ছে না উইকেটের পথ। একদিকে পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাত, অন্যদিকে স্পিনারদের নির্বিষ বোলিং। দুই পেসারের সাফল্যের পরও প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ।
প্রথম দিনের খেলা চলাকালে ৭০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৫ রান। দলের হয়ে ১১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন আমির জ্যাঙ্গু। তাঁর সঙ্গে ৩৫ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন জাস্টিন গ্রিভস।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে এখন পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন দুই পেসার। তাসকিন আহমেদ ১৪ ওভারে ৬১ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। সমান ১৪ ওভারে ৫৮ রান খরচায় হাসান মাহমুদের শিকারও ২ উইকেট।
কিন্তু স্পিনারদের কাছ থেকে আসেনি প্রত্যাশিত সাফল্য। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ ওভারে ৪২ রান, তাইজুল ইসলাম ১৬ ওভারে ৪৫ রান এবং নাঈম হাসান ৮ ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন। তিন স্পিনার মিলে ৪২ ওভার বল করেও কোনো উইকেট পাননি।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ কার্যত নিষ্প্রভ। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ তৈরি কিংবা উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পিনারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। টেস্ট ক্রিকেটে যেখানে স্পিনারদের বড় ভূমিকা রাখার কথা, সেখানে তাঁদের এমন নির্বিষ বোলিং দলের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
অথচ ইনিংসের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল আশাব্যঞ্জক। মাত্র ২৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নেন তাসকিন ও হাসান। ব্র্যান্ডন কিং ৯, জশুয়া দা সিলভা ১২ এবং কাভেম হজ ১ রান করে ফিরে যান।
এরপর কেভিন উইকহাম ও আমির জ্যাঙ্গু চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৩১ রানের জুটি। উইকহাম ১৪৫ বলে ৬১ রান করে হাসান মাহমুদের বলে আউট হলেও জ্যাঙ্গু থেমে থাকেননি। ১৭১ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ১১টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি।
পরে জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন জ্যাঙ্গু। ৭০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট ৩.৩৬। হাতে রয়েছে আরও ছয় উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় প্রশ্ন, পেসারদের প্রাথমিক সাফল্যের পর স্পিনাররা কেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে পারছেন না? উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান নিয়ন্ত্রণেও স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। নইলে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
আজকের সিলেট/ মিমো
মিজান মোহাম্মদ 








