শুভ নববর্ষ
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:১৫ AM

শুভ নববর্ষ

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ১৪/০৪/২০২৪ ০৭:৪৯:০৩ AM

শুভ নববর্ষ


প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এসেছে বাংলা নববর্ষ। আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা নববর্ষ।সাধারণত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে চলে নানা উৎসব-আয়োজন। পহেলা বৈশাখ ভোরবেলায় রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান আমাদের বর্ষবরণ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে বসে বৈশাখী মেলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। চলে আরও নানা আয়োজন।

এসবের মাঝে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রয়াস থাকে।

বাংলা নববর্ষ একান্তই আমাদের জাতিসত্তার অংশ। বাঙালির জীবনে বছরে একবারই আসে এমন দিন। আমাদের বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসব। তবে বর্তমানে এ উৎসব হয়ে উঠেছে কিছুটা শহরকেন্দ্রিক। অথচ গ্রামই এ দেশের প্রাণ। মূলত গ্রাম বাংলার মানুষ, বিশেষত  কৃষকরাই বাংলা দিনপঞ্জি অনুসরণ করে থাকেন। বাংলা ঋতুচক্র মেনে চাষাবাদ করেন। পহেলা বৈশাখের একটি সার্বজনীন ও সর্বধর্মীয় চরিত্র থাকায় এ দিনটির একটি প্রতীকী তাৎপর্যও রয়েছে।

নববর্ষের চেতনা হোক সার্বজনীন। সকল সংকীর্ণতা ও উগ্র মানসিকতার উর্ধে। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জোরদার করে, প্রগতির পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে, বাঙালির আন্তসাম্প্রদায়িক চরিত্র আরও বিকশিত করেই রুখতে হবে বাঙ্গালী সংস্কৃতিত সকল অপসংস্কৃতি ও অপশক্তির অনুপ্রবেশ।

বাংলা সনের প্রবর্তন হয়েছিল খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। নববর্ষে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি ছিল প্রচলিত। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হতো প্রতি বছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকাও ছিল অনস্বীকার্য। ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছিল এ শিল্প।

এসব কর্মকাণ্ড আমাদের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করতো নতুন মাত্রা। তাই ব্যবসায়ীরা এ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন আর এসবের কিছুই হচ্ছে না বিদ্যমান বাস্তবতায়। অপসংস্কৃতির থাবায় অনেকটা ম্লান হয়ে পড়েছে বাংলা নববর্ষের সঠিক উদযাপন ও ররণ।

বাংলা নববর্ষের হাত ধরে প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হয় নৃজাতি গোষ্ঠীর বৈসাবি, বিজু ইত্যাদি উৎসব। চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজন চলে বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। উপমহাদেশের অন্যান্য জাতির নববর্ষও আসে প্রায় একই সময়ে।

এর মধ্যেও আমরা নতুন বছরকে বরণ করে নেব। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির ধারাকে ঋদ্ধ ও বেগবান করার শপথ নেব। সব রোগ-শোক-জরা-গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন বছর দেশবাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। শুভ নববর্ষ।

সম্পাদকীয়

সিলেটজুড়ে


মহানগর