দাম কমেনি আলুর, চাপ কমেনি ভাতের
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ AM

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

দাম কমেনি আলুর, চাপ কমেনি ভাতের

মিজান মোহাম্মদ

প্রকাশিত: ১৩/০১/২০২৪ ১২:০৬:২০ PM

দাম কমেনি আলুর, চাপ কমেনি ভাতের


পৌষ মাস প্রায় শেষ। নগরজুড়ে ভর করেছে কুয়াশায় আবৃত শীত। শীতের সাথে সাথে বাড়ছে আলুর সরবরাহ। এখন আলুর ভরা মৌসুম। অন্যান্য বছর এই সময়ে আলু ১০ থেকে ১২ টাকায় পাওয়া গেলেও এই ভরা মৌসুমেও আলুর দাম চড়া। সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছে আলু কিনতে। প্রতিবছর বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ শুরু হলে নতুন-পুরনো সব ধরনের আলুর দাম কমে যায়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো। তেলের বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে যেন আলুর দামও নাগালের বাহিরে। আলুপ্রিয় বাঙালি ভোজনে আলুকে সম্পৃক্ত করতে যেন পুরো সবজির বাজেটেকেই সাবাড় করে দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ শুরু হয়েছে। কিন্তু আলুর সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও কমছে না  দাম। নগরের খুচরা বাজারগুলোতে এখনো আলুর দাম মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে আলু পাওয়া যেত ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে!

এছাড়াও শীতের সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও ক্রেতাদের বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে। আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মুরগি, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য।

নগরের লালবাজার, বন্দর, রিকাবীবাজার, মেডিকেল রোড, বাগবাড়ি ও আম্বরখানার কাঁচাবাজার  ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। খুচরায় মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পুরনো আলুর সরবরাহ খুব কম। এই আলু মানভেদে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ মানভেদে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। বাজারে এখনো পুরনো দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

রসুন এখনো উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। আদা প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা ও খোলা চিনি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৭৩ টাকা ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৮৪৫ টাকা।

নগরের রিকাবী বাজারের একাধিক খুচরা সবজি ব্যবসায়ী আজকের সিলেট ডটকম-কে বলেন, ‘এবার পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমছেই না। এতে আমরাও কমিয়ে বিক্রি করতে পারছি না। ভালো মানের নতুন আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৯০ টাকায় বিক্রি করছি। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।’

লামাবাজারের ভ্রাম্যমাণ সবজি ব্যবসায়ী মো. আরব আলী আজকের সিলেট ডটকম-কে বলেন, ‘বাজারে নতুন আলু আসা শুরু পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমছে না। তাই আমরাও বাজারে খুচরায় বড় আলু ৬০ টাকার নিচে বিক্রি করতে পারছি না। তিনি আক্ষেপের স্বরে আর বলেন বাজারে সবজির দাম না কমলে আমাদের ব্যবসাও কমে যায়। ফলে অধিকাংশ দিনই খালি হাতে বাসায় ফিরতে হয়। সবজির দাম কম হলে ব্যবসাও বাড়ে, আমাদের লাভের পরিমাণও বাড়ে।’

বন্দর বাজারে কথা হয় আখতার হোসেন নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। আজকের সিলেট ডটকম-কে তিনি বলেন, ‘বাজারে এক থেকে দেড় মাস আগে থেকে নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে। এখন আলুর প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। এক মাস আগেও ৬০/৭০ টাকায় আলু কিনতে হয়েছে, এখনো কিনতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে আলুর দাম কমাচ্ছেন না এবার। তাই সরকারকে বাজার তদারকিতে নজর দিতে হবে।’

বাজারে শীতের প্রচুর সবজির সরবরাহ থাকার পরও দাম কমছে না। এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও গোল বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাঁচা টমেটো প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও পাকা টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিটি লম্বা লাউ মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা।

মো নজরুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতার সাথে নগরের আম্বরখানা সবজি বাজারে কথা হলে আজকের সিলেট ডটকম-কে তিনি বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে সস্তা সবজি ছিলো আলু। তাই একবার সমালোচিত সাবেক তত্ববাধায়ক সরকারের উপদেষ্ঠা ফখরুদ্দিন বলেছিলেন-বেশি করে আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান।’ কিন্তু এখন কোন সবজি খেয়ে আলুর উপর চাপ কমাবো বুঝে ওঠতে পারছি না।’


জয়বাংলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট ছড়াকার অজিত রায় ভজন আজকের সিলেট ডটকম-কে বলেন, ‘বাজার লাগামহীন। যে যেভাবে পারছে লুটেপুটে খাচ্ছে। আমজনতার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরো মাসের বাজেট হারিয়ে ফেলছে। ক্রমশঃ বাড়ছে মধ্য বিত্ত থেকে নিম্নবিত্তের সংখ্যা। বাজারে কঠোর নজরদারি করে এদের লাগান এখনই টেনে না ধরলে সার্বিক পরিণতি ভয়াবহ হবে। কারণ এখন পুরো শীতের মৌসুম যাচ্ছে তবুও কোন শীতের সবজির দাম কমেনি তার মানে সামনে আরো কঠিন সময় আসছে।’

আজকের সিলেট/এমএম/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর