'আম ছালা দুটোই গেল' নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলের। নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় মুকুলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান অংশ নেন মুকুল। তবে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মুজিবুর রহমান শেফুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতার দৌড়ে ঠিকে থাকতে পারেননি তিনি। ভোটের ফলাফলে পঞ্চমস্থানে রয়েছে মুকুলের অবস্থান।
জানা যায়, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২য় ধাপে ২১ মে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৮ এপ্রিল গজনাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ইমদাদুর রহমান মুকুল। ২১ এপ্রিল নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫ জন, বিএনপির ১ জন, জাতীয় পার্টির ১জন মোট হ ৮জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২১ মে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ফলাফলে দেখা যায়- চেয়ারম্যান পদে- নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহবায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু (চিংড়ি) প্রতীকে ২৫ হাজার ১৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম (ঘোড়া) প্রতীকে পেয়েছেন- ২১ হাজার ৭৫১ ভোট। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ (মোটরসাইকেল) প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২০ হাজার ৫৬৩ ভোট, ১ম সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল (দোয়াত কলম) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৪২, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুর রহমান মুকুল (হেলিকাপ্টার) প্রতীকে ১৭ হাজার ৪৭ ভোট, হবিগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী বোরহান উদ্দিন চৌধুরী (আনারস) প্রতীকে ৩ হাজার ৩৭৬ ভোট, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আবুল খয়ের (কৈ মাছ) প্রতীকে ১ হাজার ৯৫০ ভোট, শেখ মোস্তফা কামাল (কাপ পিরিছ) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯০৫ ভোট।
বিএনপির মুজিবুর রহমান শেফুর সঙ্গে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ঠিকে থাকতে পারেননি নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুর রহমান মুকুল। ১৭ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে পঞ্চমস্থানে রয়েছে মুকুলের অবস্থান। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পদ হতে পদত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে না পারায় আম-ছালা দুটোই গেলো মুকুলের।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল- ২ লাখ ৮২ হাজার ৭১৪টি। এরমধ্যে নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা- ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২৯টি।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








