নবীগঞ্জে যে কারণে আওয়ামীলীগ পন্থি প্রার্থীদের ভরাডুবি
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:০২

নবীগঞ্জে যে কারণে আওয়ামীলীগ পন্থি প্রার্থীদের ভরাডুবি

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬/০৫/২০২৪ ১০:৫৪:২৮

নবীগঞ্জে যে কারণে আওয়ামীলীগ পন্থি প্রার্থীদের ভরাডুবি


শেষ পর্যন্ত নবীগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সত্য হলো আলোচিত ইস্যুটি। বিএনপির এক বহিষ্কৃত নেতার সামনে মুখথুবড়ে পড়লেন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের পাঁচ হাইভোল্টেজ নেতা।

ভোটের আগেই ধারণা করা হয়েছিল, মুজিবুর রহমান শেফুর সঙ্গে জোর টক্কর দিলেও এই উপজেলায় পরাজিত হতে পারেন আওয়ামীপন্থি প্রার্থীরা। হয়েছেও সেটাই। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার পর্যায়ের প্রভাবশালী পাঁচজন নেতাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু। তাঁর চমকপদ বিজয় নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা। শেফুর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী বুলবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল এবং জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী।

চেয়ারম্যান পদে পরাজয়ের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলকে দায়ী করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহল। অতীতে আওয়ামী লীগের এমন ভরাডুবি আর কখনও হয়নি, যা এবার হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলাব্যাপী চলছে নানা গুঞ্জন। এমন ভরাডুবির পেছনে কারণ হিসেবে কেউ মনে করছেন দলীয় কোন্দল আবার কেউ কেউ দায় দিচ্ছেন আঞ্চলিকতাকে। তাদের দাবি, ততোধিক প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও অনুসারীদের ভোট ভাগাভাগি হয়েছে। এতে করে আওয়ামীপন্থি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

অপরদিকে প্রকাশ্যে মাঠে না থাকলেও শেফুর ব্যালটে এককভাবে পড়েছে বিএনপি অনুসারীদের ভোট, যা তাঁর জয়কে সহজ করেছে। এই উপজেলায় আওয়ামী শিবিরের বাইরে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু। তাই তাঁর ভোটে ভাগের কোনো প্রভাব পড়েনি।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা মনে করেন, দলের একক প্রার্থী থাকলে বিএনপি নেতার জয় অসম্ভব ছিল।

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ বলেন, নবীগঞ্জে আমাদের একাধিক প্রার্থী থাকার কারণেই মূলত বিজয় হাতছাড়া হয়েছে। কারণ দলীয় ভোট কয়েক ভাগে ভাগ হয়েছে। তবে একক বা দু’জন প্রার্থীও যদি নির্বাচনে অংশ নিতেন তাহলে আমাদের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত ছিল। সেটি প্রমাণ হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান পদে। এখানে দলের প্রার্থী সংখ্যা কম ছিল, তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ছইফা রহমান কাকলী বেগম জয়ী হয়েছেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর