আমলারা কেন মন্ত্রিসভায় নেই?
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:১৭ PM

আমলারা কেন মন্ত্রিসভায় নেই?

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪/০১/২০২৪ ১১:৫৩:৩৯ AM

আমলারা কেন মন্ত্রিসভায় নেই?


এবার নির্বাচনে বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ আমলা মনোনয়ন পেয়েছিলেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং আরেকজন সচিব সৌমেন্দ্র চক্রবর্তী এবার নির্বাচন মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার এবং একান্ত সচিব আলাউদ্দিন নাসিম চৌধুরীও এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

ধারণা করা হয়েছিল যে, মন্ত্রিসভা গঠনের সময় এবার আমলাদের হিস্যা থাকবে। বেশ কয়েকজন আমলা এবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ অর্থ বা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি যেকোনো একটি মন্ত্রণালয় পেতে পারেন এমন কথা বেশ আলোচনায় ছিল। তার মন্ত্রী হওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদকে মন্ত্রীত্ব দেননি।

একই ভাবে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকও। মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং সৌমেন্দ্র চক্রবর্তী। এমনকি আমলা থেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে বেড়ে উঠা আলাউদ্দিন নাসিমও এবার মন্ত্রী হননি। যদিও তিনি সাবেক আমলা নন, বরং একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেই ব্যাপকভাবে পরিচিত। কিন্তু তাদের মন্ত্রী না করায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছে।

যদিও অনেকে এতে খুশি হয়েছেন। তারা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে আমলাতন্ত্র থেকে সরকার বেরিয়ে আসার একটা চেষ্টা করছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাদের বেশি ঘনিষ্ঠতা সক্রিয়তা তারাই সরকারের নীতি নির্ধারক কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি। বরং কামাল আবু নাসের চৌধুরী এবার উপদেষ্টা হয়েছেন। আমলাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র উপদেষ্টা। অথচ তার ক দিন আগেই কবির বিন আনোয়ার ঘটা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

তার পিএলআরও শেষ হয়েছে। মাত্র ১৪ দিনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিল যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময় তাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের পর ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ হিসেবে অধিকতর পরিচিত এই সাবেক আমলা একজন উপদেষ্টা অন্তত হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে কামাল আবু নাসের চৌধুরীকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।

কামাল আবু নাসের চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছিলেন। তিনি জনপ্রশাসন সচিব এবং শিক্ষা সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ডাকসু নির্বাচনে তিনি ছাত্রলীগের ব্যানারে সাহিত্য সম্পাদক করলেও আমলাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ হিসাবে তিনি অতো সক্রিয় নন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশেষ আস্থাভাজন এবং মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে তিনি অত্যন্ত সফল হয়েছেন। এবার নির্বাচনে তার মনোনয়ন প্রাপ্তির গুঞ্জন ছিল কুমিল্লার একটি আসন থেকে। শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পান নাই বটে কিন্তু উপদেষ্টা হয়ে সেটি পুষিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন আমলারা মন্ত্রিত্ব পেলেন না? এর বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা আছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন সময় ফুরিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী কেবল একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করলে যে সমস্ত সাবেক আমলারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আবার অনেকেই মনে করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা রাজনীতিকরণ করেছেন।

একজন আমলা আওয়ামী লীগে যোগদান করেই এমপি হয়ে হুটহাট মন্ত্রী হবেন এই চিন্তা চেতনা থেকে তিনি বের হয়ে আসতে চাইছেন। আর এ কারণেই আমলাদেরকে এবার মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তবে বিভিন্ন মহল মনে করছেন যে, মন্ত্রিসভায় রাখা না হলেও সরকার পরিচালনায় আমলাদের ভূমিকা এখনো অব্যাহত থাকবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর