বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার ৩টি পদে রের্কড সংখ্যক ২১জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তন্মধ্যে ১৪জন প্রার্থীই জামানত হারিয়ে লজ্জার রের্কড গড়েছেন। জামানত হারানোদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ না পাওয়ায় এই ১৪জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
গত ২৯ মে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টানা ২য় বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান পদে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে ২০ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. আবুল কাশেম পল্লব। নির্বাচন কমিশন তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. গৌছ উদ্দিন শালিক পাখি প্রতীক নিয়ে ১৮ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৬হাজার ১১১ ভোট পেয়ে ৩য় হয়েছেন। এই তিন প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা বাকী ৬জন প্রার্থীর সকলেই জামানত হারিয়েছেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ৫৮৯ জন। তন্মধ্যে এবারের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বৈধ কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ৬৮হাজার ৪৫৬ টি। সেই হিসাবে বিধি মোতাবেক শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০ হাজার ২৬৮ ভোটের চেয়ে কম ভোট যারা পেয়েছেন তারা জামানত হারিয়েছেন।
জামানত হারানো চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান (টেলিফোন প্রতীকে ৪৯৫৭ ভোট), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জামাল হোসেন (আনারস প্রতীকে ২৪৫১ ভোট), সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন ( কৈ মাছ প্রতীকে ১২৭৬ ভোট), সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আব্দুল বারী (ধোয়াত কলম প্রতীকে ১২৯১ ভোট), বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক সাংবাদিক মো. জহির উদ্দিন ( ঘোড়া প্রতীকে ৯২৪ ভোট), এবং প্রবাসী বিএনপি নেতা মো. জাকির হোসেন সুমন ( কাপ-পিরিচ প্রতীকে ২৬৬৩ ভোট )।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। তন্মধ্যে বই প্রতীকের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান ২৩ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আশরাফুল হক রুনু বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। বাকী ৬ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ কাস্টিং ভোট ৬৮ হাজার ৪৩৭ টি। সেই হিসাবে শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০ হাজার ২৬৫ ভোটের কম যারা পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন মো. খালেদুর রহমান (উড়োজাহাজ প্রতীকে ৭৫৬৩ ভোট), মো. জসিম উদ্দিন (টিউবওয়েল প্রতীকে ৭০৬৮ ভোট), সায়দুল ইসলাম (মাইক প্রতীকে ৬৩৪৫ ভোট), জামাল উদ্দিন (টিয়া পাখি প্রতীকে ৫০২০ ভোট) এবং সুহেল আহমদ রাশেদ (চশমা প্রতীকে ৩৮৬৭ ভোট)।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। তন্মধ্যে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী জেসমিন নাহার ২৮ হাজার ৯৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হাসিনা আক্তার হাঁস প্রতীক নিয়ে ২৬ হাজার ৩৫৬ ভোট পেয়ে ২য় হয়েছেন। অন্য দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ কাস্টিং ভোট ৬৭৯২৫ টি। সেই হিসাবে শতকরা ১৫ ভাগ অর্থাৎ ১০ হাজার ১৮৮ ভোটের কম যারা পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত হারানো মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন জাহানারা বেগম (কলস প্রতীকে ৬৭৭৭ ভোট) এবং রোমানা আফরোজ (বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৫৮০৬)।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি 








